বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের মাঝে ফের একবার কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটল ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন (Amazon)। এবার সংস্থার ‘সেলিং পার্টনার সার্ভিসেস’ (Selling Partner Services) বিভাগ থেকে বেশ কিছু কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত কয়েক মাসে ধাপে ধাপে প্রায় ৩০,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করার পর আমাজনের এই নতুন পদক্ষেপ কর্পোরেট মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। খরচ কমানো এবং কাজের পদ্ধতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর (AI) ব্যবহার বৃদ্ধিই এই ছাঁটাইয়ের নেপথ্যে প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজনেস ইনসাইডারের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমাজন নিশ্চিত করেছে যে তাদের সেলিং পার্টনার সার্ভিসেস টিমে নতুন করে রদবদল করা হয়েছে। এই বিভাগটি মূলত তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের পণ্য অনবোর্ডিং, লজিস্টিকস এবং অ্যাকাউন্ট ম্যানেজমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো দেখাশোনা করে। যদিও সংস্থাটি দাবি করেছে যে ছাঁটাই হওয়া কর্মীর সংখ্যা “অল্প”, তবে এটি কোম্পানির চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। আমাজনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, কার্যক্রম উন্নত করার জন্য নিয়মিতভাবে বিভাগগুলো পর্যালোচনা করা হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমা, ক্ষতিপূরণ এবং নতুন চাকরি খুঁজে পেতে সবরকম সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সিইও অ্যান্ডি জ্যাসির (Andy Jassy) নেতৃত্বে আমাজন এখন এক নতুন কৌশলে এগোচ্ছে। মহামারীর সময় চাহিদার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় কোম্পানিটি বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় এবং অটোমেশনের দাপট বাড়ায় কর্মী সংখ্যা সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমাজন বর্তমানে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে, যার বড় একটি অংশ ব্যয় হবে এআই পরিকাঠামো এবং ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে। রিটেইল, লজিস্টিকস এবং ক্লাউড বিজনেসে মানুষের পরিবর্তে এআই টুলস ব্যবহার করে খরচ কমিয়ে দ্রুত পরিষেবা দেওয়াই এখন সংস্থার মূল লক্ষ্য। অ্যান্ডি জ্যাসি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে অটোমেশন কিছু চাকরির প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিতে পারে। এই পরিবর্তনের ফলে কর্মীদের মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক দানা বাঁধছে।





