সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা শত্রুর কাল! ফরাসি প্রযুক্তিতে ভারতীয় নৌবাহিনীতে আসছে ‘চালকবিহীন’ যমদূত

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার এবং সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় নৌবাহিনী। শত্রুপক্ষের পেতে রাখা মাইন শনাক্ত ও ধ্বংস করতে এবার অত্যাধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তির সাহায্য নিতে চলেছে ভারত। দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T) এবং ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি জায়ান্ট ‘এক্সেল’ (Exail)-এর মধ্যে এই সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য হলো ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘মাইন কাউন্টার মেজার ভেসেল’ (MCMV) প্রকল্পের জন্য বিশ্বমানের ‘আনম্যানড মাইন কাউন্টার-মেজার স্যুট’ তৈরি ও সরবরাহ করা।

বর্তমান সময়ে আধুনিক নৌ-যুদ্ধে মাইন একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অস্ত্র। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো প্রায়ই সমুদ্রপথ রুদ্ধ করতে এই মাইন ব্যবহার করে থাকে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে এই প্রযুক্তি ভারতের জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হতে চলেছে। এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর চালকবিহীন পরিচালনা। অর্থাৎ, বিপজ্জনক মাইন এলাকাগুলোতে নৌসেনাদের আর সশরীরে প্রাণ ঝুঁকিতে ফেলে প্রবেশ করতে হবে না। উন্নত সেন্সরযুক্ত এই আনম্যানড স্যুটটি নির্ভুলভাবে পানির নিচের মাইন শনাক্ত করবে এবং দূর নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে তা নিরাপদ দূরত্ব থেকে ধ্বংস করবে।

এই চুক্তিটি কেবল প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয় নয়, এটি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরশীলতার (আত্মনির্ভর ভারত) পথে একটি মাইলফলক। দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে ফরাসি প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন ভারতকে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। বর্তমানে নৌবাহিনীর ১২টি মাইন কাউন্টার মেজর ভেসেল নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। ২০১৯ সালে শেষ মাইনসুইপার জাহাজটি অবসরে যাওয়ার পর থেকে নৌবাহিনীতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, এলঅ্যান্ডটি-র এই উদ্যোগ তা পূরণ করতে সাহায্য করবে। সূত্রমতে, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রথম জাহাজটি প্রস্তুত হতে ৪ থেকে ৬ বছর সময় লাগতে পারে। গভীর সমুদ্রের অদৃশ্য বিপদ মোকাবিলায় ভারতের এই ‘চালকবিহীন’ মিশন সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy