রাজধানীর দোরগোড়ায় ভয়াবহ ছক নস্যাৎ! ফরিদাবাদে কাশ্মীরি চিকিৎসকের ভাড়া বাড়ি থেকে ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক ও AK-47 উদ্ধার

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) এবং ফরিদাবাদ পুলিশের এক সফল যৌথ অভিযানে উত্তর ভারতে একটি বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করা হয়েছে। রবিবার ফরিদাবাদের ধাউজ গ্রামের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে প্রায় ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক পদার্থ, একটি একে-৪৭ রাইফেল এবং বিপুল পরিমাণ গুলি-বারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

ধৃত চিকিৎসকের ভূমিকা: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অভিযান সফল হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজনদের জেরা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। তদন্তে জানা যায়, ফরিদাবাদের আল-ফলাহ মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র ড. মুজাহিল শাকিল, যিনি মূলত জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা, তিনি গত তিন মাস ধরে ধাউজ গ্রামের ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে বিস্ফোরকগুলি মজুত করেছিলেন। শাকিলকে ৩০ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয় তাঁর সহযোগী ড. আদিল আহমদ রাঠারকে পাকড়াও করার পর। রবিবার সকালে তাঁকে ফরিদাবাদে এনে গোপন মজুত সামগ্রী শনাক্ত ও উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া সামগ্রী: অভিযানে মোট ৪৮টি আইটেম উদ্ধার হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১৪ ব্যাগ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (ওজন প্রায় ১০০ কেজি, যা আইইডি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়)।

একটি একে-৪৭ রাইফেল ও ৮৪টি লাইভ কার্টিজ।

টাইমার, রাসায়নিক দ্রবণ এবং আইইডি (IED) তৈরির অন্যান্য উপকরণ।

ফরিদাবাদ পুলিশের কমিশনার সতেন্দ্র গুপ্ত নিশ্চিত করেছেন যে উদ্ধার হওয়া পদার্থটি আরডিএক্স নয়, বরং অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকদের মতে, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক দিয়ে একাধিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আইইডি তৈরি করা সম্ভব ছিল।

তদন্তের গতিপথ: উদ্ধার সামগ্রীর প্রাথমিক ফরেনসিক পরীক্ষায় বিস্ফোরক গুণাগুণ নিশ্চিত হয়েছে এবং বিস্তারিত বিশ্লেষণের জন্য সেগুলি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত যোগসূত্রের ইঙ্গিত মিলেছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি অর্থের উৎস এবং সম্ভাব্য ‘হ্যান্ডলার’-দের সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ শীর্ষ মহল সূত্রে খবর, শীঘ্রই এই তদন্তে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) যোগ দিতে পারে। এই অভিযান উত্তর ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভয়াবহ হামলার আশঙ্কা নস্যাৎ করেছে বলে পুলিশের দাবি।