রাঘোপুরে লড়ছেন না পিকে! ‘সবচেয়ে বড় চমক’ কেন ভোটের ময়দান থেকে সরলেন, জন সুরাজের ভবিষ্যৎ কী?

বিহারের রাজনীতিতে যাঁকে ‘সবচেয়ে বড় চমক’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেই প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor – PK) অবশেষে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সরাসরি ভোটে লড়ছেন না। একসময় তেজস্বী যাদবের গড় রাঘোপুর থেকে তাঁর প্রথম নির্বাচনী অভিযান শুরুর জল্পনা ছিল। কিন্তু পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি প্রার্থী হচ্ছেন না।

কেন পিকে সরে দাঁড়ালেন?
পিকে-র এই সিদ্ধান্তে জন সুরাজের তৃতীয় শক্তি হয়ে ওঠার আশা কার্যত ম্লান হয়ে গেল। তবে কিশোর জানিয়েছেন, জন সুরাজ দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে আপাতত সংগঠনকে মজবুত করার দিকে মনোযোগ দেবেন।

চমক রাঘোপুরে: রাঘোপুরে চঞ্চল সিং, জন সুরাজ যুব শাখার সহসভাপতি, দলীয় প্রতীক পেয়েছেন।

বিজেপির কটাক্ষ: বিজেপি ইতিমধ্যেই ঠাট্টা করে বলছে, “যাঁর কৌশল আমরা কিনেছিলাম, তিনিই এখন মাঠে নেই।”

মহাগাঠবন্ধনের দাবি: মহাগাঠবন্ধন শিবির বলছে, জন সুরাজের জোয়ার আছে শুধু টুইটার আর টেলিভিশনে, ‘গ্রাউন্ডে’ (মাঠে) নয়।

যদিও কিশোরের দাবি, ১৫০টির কম আসন পেলে সেটাই হবে তাঁর দলের পরাজয়, যা বিজেপির অমিত শাহর ১৬০ আসনের লক্ষ্যের সঙ্গে তুলনীয়।

এবারের আসল ‘M’ ফ্যাক্টর: মহিলারাই কি ভাগ্যনিয়ন্তা?
রাজনৈতিক পণ্ডিতদের মতে, এবারের নির্বাচনের আসল ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হতে পারে ‘M’ অর্থাৎ মহিলা ভোটার। বিহারে বর্তমানে প্রায় ৩.৫ কোটি নারী ভোটার আছেন। আগের নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে, মহিলা ভোটারদের একটি বড় অংশ নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) দিকে ঝুঁকেছিলেন।

নীতীশের কৌশল: নীতীশ কুমারের সরকার মহিলা কর্মসংস্থানের জন্য চালু করেছে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’, যা মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতার দিকে বড় পদক্ষেপ। এটি ‘ক্ষমতায়নের স্বপ্ন’ দেখাচ্ছে।

তেজস্বীর প্রতিশ্রুতি: অন্যদিকে, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব (Tejashwi Yadav) দরিদ্র ও অনগ্রসর শ্রেণির নারীদের মাসে ২,৫০০ টাকা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিভিন্ন রাজ্যে ‘লাড়লি বেহনা’র মতো প্রকল্প যেভাবে নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে, তাতে মনে করা হচ্ছে বিহারেও এই মহিলা ভোটারদের মন শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন।

অন্যদিকে, একসময় ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR)-কে ভোটের মোড় ঘোরানো ইস্যু মনে হলেও, ৬৯ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার পরও সেটি এখন প্রায় অপ্রাসঙ্গিক। ভোট-পূর্ব সমীক্ষা বলছে, বিহারবাসী এখন ধর্ম বা জাতপাতের বদলে উন্নয়ন, জীবিকার সহজতা ও দায়বদ্ধতাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। ইভিএম খোলার পর অর্থাৎ ১৪ নভেম্বরেই জানা যাবে বিহারের ভবিষ্যৎ।