“রবিন হুডের আশ্রয়স্থল যে গাছ!”-১০০০ বছরের ‘মেজর ওক’ গাছটির প্রাণ গেল কেন?

লোকগাথার রবিন হুডের স্মৃতিবিজড়িত ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন ও আইকনিক গাছ ‘দ্য মেজর ওক’ আর নেই। ইংল্যান্ডের নটিংহামশায়ারের শেরউড ফরেস্টে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ১০০০ বছরের এই প্রাচীন বৃক্ষটি এ বছর কোনো নতুন পাতা মেলতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট তীব্র তাপদাহ ও খরায় দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গাছটি প্রাণ হারিয়েছে।
রবিন হুডের আশ্রয়স্থল থেকে পর্যটন বিস্ময়
জনশ্রুতি রয়েছে, নটিংহামের অত্যাচারী শেরিফের হাত থেকে বাঁচতে রবিন হুড এবং তার দলবল এই বিশালাকার ওক গাছের খোঁড়লেই আশ্রয় নিতেন। প্রায় ১১ মিটার চওড়া কাণ্ড ও ২৮ মিটার বিস্তৃত ডালপালা বিশিষ্ট এই গাছটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য লোককথা। ২০১০ সালে এই গাছের কাণ্ডে বরফ জমে অলৌকিকভাবে ‘ফ্রিয়ার টাক’-এর মতো অবয়ব তৈরি হয়েছিল, যা আজও পর্যটকদের কাছে এক বিস্ময়কর স্মৃতি।
কী কারণে প্রাণ হারাল ‘মেজর ওক’?
গাছটির মৃত্যুর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ সামনে এসেছে:
তীব্র তাপদাহ: ২০২২ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের রেকর্ড ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা গাছটির সহ্যশক্তির চূড়ান্ত পরীক্ষা নিয়েছিল, যা থেকে এটি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
মানুষের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ: ১৯৭০-এর দশকে সুরক্ষাবেষ্টনী দেওয়ার আগে পর্যটকদের মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়েছিল।
কৃত্রিম সংস্কারের হিতে বিপরীত: ১৯০৪ ও ১৯৬০-এর দশকে ডালপালাকে ধরে রাখতে শিকল, ধাতব খুঁটি এবং কংক্রিট ব্যবহার করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই কৃত্রিম সাপোর্টগুলো গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার প্রক্রিয়ায় উল্টো চাপ সৃষ্টি করেছিল।
শেষ শ্রদ্ধা
গাছটির মৃত্যুর খবর ছড়াতেই শেরউড ফরেস্টে ভিড় করেন স্থানীয় ও বিদেশি পর্যটকরা। রবিন হুডের পোশাকে এক ব্যক্তি এসে গাছটির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। বছরে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ এই গাছটি দেখতে যেতেন, যা আজ কেবলই স্মৃতি। ১৭৯০ সালে মেজর হেইম্যান রুকের নামানুসারে নামকরণ হওয়া এই গাছটি ছিল প্রকৃতির এক অনন্য নিদর্শন, যার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে পরিবেশপ্রেমীদের মাঝে।