রথযাত্রার সকালে মায়াপুরে দিলীপ ঘোষ! সস্ত্রীক পুজো ও যজ্ঞে কী বার্তা দিলেন বিজেপি নেতা?

আজ রথযাত্রার পুণ্য তিথি। দেশজুড়ে যখন জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার সাজসাজ রব, ঠিক তখনই ইসকন হেডকোয়ার্টার মায়াপুরে দেখা গেল এক অন্যরকম দৃশ্য। রথের সকালের পবিত্র লগ্নে সস্ত্রীক এবং নিজের মাকে সঙ্গে নিয়ে মায়াপুর চন্দ্রোদয় মন্দিরে উপস্থিত হলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। এই পুণ্যদিনে মন্দিরে ভগবানের উদ্দেশ্যে আরতি করার পাশাপাশি, গোমাতা পুজোয় অংশ নিতে দেখা গেল তাঁকে।
মায়াপুরে পৌঁছে দিলীপ ঘোষ অতি ভক্তিভরে গোমাতাকে নিজের হাতে খাওয়ালেন, পা ধুয়ে প্রণাম জানালেন। এরপর ইসকনের রীতিনীতি মেনে যজ্ঞানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তিনি। সস্ত্রীক যজ্ঞাহুতি দিয়ে তিনি জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “রাজ্যপালের কাছে আবেদনের পর ইসকনের মতো এমন একটি পুণ্যময় প্রতিষ্ঠানের রথযাত্রায় অংশ নিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”
তবে রথযাত্রার আধ্যাত্মিক আবহাওয়ার মধ্যেও এদিন রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাননি দিলীপ ঘোষ। বর্তমান রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “তৃণমূলের জন্য বিজেপির দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মশা-মাছি পর্যন্ত আর সেই দরজার ভেতর ঢুকতে পারবে না।” মদন মিত্রের দলবদল সংক্রান্ত সাম্প্রতিক জল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ তা কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “ওটা অন্য দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”
অন্যদিকে, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে চলছে রথযাত্রার বর্ণাঢ্য আয়োজন। শুক্লপক্ষের এই পবিত্র তিথিতে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে নিয়ে ভক্তদের আবেগ এখন তুঙ্গে। গতকাল থেকেই পুরীতে দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে, কিন্তু দুর্যোগকে উপেক্ষা করেই সৈকত শহরে ভিড় জমিয়েছেন কাতারে কাতারে ভক্ত। মন্দিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে পবিত্র পহন্ডি প্রক্রিয়া। পুরীর রথযাত্রার বিশেষত্ব হলো রথের ক্রমবিন্যাস। প্রথমে চলে বলরামের রথ ‘তালধ্বজ’, যাকে গুরুর প্রতীক মনে করা হয়। এরপর সুভদ্রার রথ ‘দর্পদলন পদ্মধ্বজ’, যা ভক্তির প্রতীক। সবার শেষে থাকে জগন্নাথদেবের রথ ‘নন্দীঘোষ’, যিনি ঈশ্বরের প্রতীক। আধ্যাত্মিক দর্শনে মনে করা হয়, গুরুর হাত ধরে ভক্তির পথেই ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। এবারের রথযাত্রাতেও বিশেষ কাঠ দিয়ে তৈরি এই তিন রথ জগন্নাথ ভক্তদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।