রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর! কী প্রার্থনা করলেন তাঁরা?

রথযাত্রার পবিত্র শুভক্ষণে আজ সেজে উঠেছে গোটা দেশ। এই বিশেষ উৎসবে জগন্নাথ দেবের চরণে প্রণাম জানিয়ে দেশ ও বিদেশের সকল ভক্তদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে এক আবেগঘন বার্তায় জানান, রথযাত্রা কেবল একটি উৎসব নয়, বরং এটি ভক্ত ও পরমেশ্বরের মিলনের এক অনন্য আধ্যাত্মিক উপলক্ষ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পবিত্র দিনে মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রার সঙ্গে শ্রীমন্দিরের বাইরে বেরিয়ে আসেন ভক্তদের দর্শন দিতে। রাষ্ট্রপতি প্রার্থনা করেছেন, মহাপ্রভুর আশীর্বাদে যেন দেশের জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়।

পাশাপাশি, রথযাত্রার এই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। রথযাত্রাকে ভারতের শাশ্বত আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রাচীন ঐতিহ্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষকে অনুপ্রেরণা দিয়ে এসেছে। তিনি তাঁর বার্তায় বিনম্রতা, সম্মিলিত অংশগ্রহণ এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শকে রথযাত্রার মূল ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রার্থনা করেছেন, মহাপ্রভু জগন্নাথ যেন আমাদের সকল প্রচেষ্টায় শক্তি জোগান এবং সমাজে পারস্পরিক সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা আরও সুদৃঢ় করেন।

এদিকে, রথযাত্রার মূল কেন্দ্রবিন্দু পুরীতে সাজ সাজ রব। ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি মেনে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে সারিবদ্ধভাবে আনা হয়েছে তিনটি পবিত্র রথ—নন্দীঘোষ, তালধ্বজ এবং দর্পদলন। ‘আজ্ঞান মালা বিজে’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মূল আচার-অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। পুরীর মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে রথারূঢ় হওয়ার প্রক্রিয়াটি দেখার জন্য মন্দির চত্বরে সমবেত হয়েছেন লক্ষ লক্ষ ভক্ত।

হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান এই উৎসব ঘিরে ওড়িশা রাজ্য সরকার এবং প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার আয়োজন করেছে। রথযাত্রার এই শোভাযাত্রা যাতে নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে আকাশ-বাতাস। সব মিলিয়ে, রথযাত্রার অমোঘ টানে আজ বিভোর গোটা ভারত। মহাপ্রভুর রথের চাকা গড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দূর হোক সকল গ্লানি, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসুক প্রতিটি ঘরে—এই প্রত্যাশাই আজ সকল ভারতবাসীর হৃদয়ে।