পাগলাঝোরার ভয়ঙ্কর রূপ, শিলিগুড়ি থেকে পাহাড়ি এলাকা—কোথায় পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ?

শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলে বৃহস্পতিবার সকালের শুরুটা হয়েছিল প্রকৃতির এক ভয়াবহ রূপ দিয়ে। মাত্র এক ঘণ্টার টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে শিলিগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা, বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। আবহাওয়া দপ্তরের কোনো বিশেষ সতর্কবার্তা না থাকলেও, সকাল হতেই কালো মেঘে ঢাকা আকাশ থেকে অঝোরে ঝরতে শুরু করে বৃষ্টি। শহরের নিকাশি ব্যবস্থার চরম সীমাবদ্ধতা এবং প্রবল বর্ষণের দাপটে মুহূর্তের মধ্যে রাস্তাঘাট পরিণত হয় নদীতে।

প্রায় এক ঘণ্টার এই স্বল্প সময়ের মধ্যে শিলিগুড়িতে প্রায় ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা শহরের নিকাশি ব্যবস্থাকে মুহূর্তেই অচল করে দেয়। সবচেয়ে শোচনীয় পরিস্থিতির সম্মুখীন হন হায়দারপাড়া ও চম্পাসারি এলাকার সাধারণ মানুষ। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল থমকে দাঁড়ায় এবং জল ভেঙে কর্মস্থলে পৌঁছাতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হন নিত্যযাত্রীরা। মহানন্দা নদীর তীরবর্তী ১, ৪ এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক নিচু এলাকায় মানুষের বাড়ির উঠোন পর্যন্ত জল ঢুকে পড়ে, যা বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতির উন্নতি হলেও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিচু এলাকাগুলোতে নজরদারি জারি রাখা হয়েছে।

শুধু সমতলই নয়, শিলিগুড়ির সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও বৃষ্টির প্রভাব ছিল মারাত্মক। কার্শিয়াংয়ে এদিন প্রায় ১১০ মিলিমিটার এবং কালিম্পংয়ে ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। পাহাড়ি নদী ও ঝরনাগুলোর জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সিকিমমুখী সড়ক যোগাযোগও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর পাগলাঝোরা আবারও তার পুরনো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। পাহাড়ি ঢলের প্রচণ্ড শব্দ ও পানির প্রবল স্রোত দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাহাড়ের ধস ও ঝরনার বাড়ন্ত জলের কারণে পাহাড়ি এলাকায় যেকোনো মুহূর্তের বিপদের আশঙ্কায় রয়েছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তৎপর রয়েছে।