হাই-সিকিউরিটি জেলের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে খোদ জেলের ভেতরেই চলছিল রমরমা মাদক পাচার। আর এই চক্রের মূল পান্ডা হিসেবে নাম উঠে এল খোদ এক পুলিশ কনস্টেবলের! উত্তর গোয়ার কোলভালে সেন্ট্রাল জেলে মাদক সরবরাহের অভিযোগে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হলো সুমেশ মান্ড্রেকর নামে এক পুলিশকর্মীকে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
জেলের গেটেই পাতা ছিল ফাঁদ!
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ ব্যাচের কনস্টেবল সুমেশ মান্ড্রেকর বেশ কিছুদিন ধরেই জেলের ভেতরে কয়েদিদের কাছে মাদক পৌঁছে দিচ্ছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার জেলের মূল ফটকেই ওত পেতে ছিলেন তদন্তকারীরা। সুমেশ ডিউটিতে যোগ দিতে জেলে ঢোকার সময় শুরু হয় তল্লাশি। আর তাতেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল! তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ১.৬৫ কিলোগ্রাম গাঁজা।
৪ প্যাকেটে চলত পাচার
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পাচারের সুবিধার জন্য এবং নজর এড়াতে গাঁজাগুলিকে চারটি আলাদা প্যাকেটে ভাগ করে রাখা হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, জেলের ভেতর থাকা প্রভাবশালী কয়েদিদের হাতে এই প্যাকেটগুলি পৌঁছে দেওয়া। তবে তার আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে যান এই ‘রক্ষক’রূপী ভক্ষক।
তদন্তের মুখে বড় প্রশ্ন
আটক করার পর অভিযুক্ত কনস্টেবলকে প্রিজন সুপারিনটেনডেন্ট সুচিতা দেশাইয়ের সামনে পেশ করা হয়। ধৃত সুমেশকে আপাতত পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রশাসনের অন্দরে এখন একটাই প্রশ্ন—রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কোলভালে সেন্ট্রাল জেলে কীভাবে একজন পুলিশকর্মী এতদিন ধরে এই কারবার চালালেন?





