ভোটের আগেই রণক্ষেত্র নন্দীগ্রাম! শুভেন্দুর গড়ে গভীর রাতে বোমাবাজি, নেপথ্যে কি পুরনো শত্রুতা?

২০২১-এর সেই হাইভোল্টেজ স্মৃতি কি ফিরে আসছে ২০২৬-এ? নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আবারও রাজনীতির এপিসেন্টার হয়ে উঠছে। রাত বাড়লেই কান ফাটানো শব্দ আর তাজা বোমার গন্ধে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। একদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে তাঁরই একসময়ের ছায়াসঙ্গী তথা বর্তমান তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর— এই দুইয়ের দ্বৈরথে নন্দীগ্রামের মাটি এখন কার্যত তপ্ত আগ্নেয়গিরি।

উত্তেজনার কেন্দ্রে এবার দাউদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সংখ্যালঘু সেলের সাধারণ সম্পাদক আব্বাস বেগের বিস্ফোরক অভিযোগ, তাঁকে প্রকাশ্য সভায় দাঁড়িয়ে খুনের হুমকি দিয়েছেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা শেখ সুফিয়ান। গত ১৫ এপ্রিল একটি পথসভা থেকে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু বিতর্ক সেখানেই শেষ নয়। আব্বাস বেগের দাবি, এই ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতেই ১৬ এপ্রিল গভীর রাতে তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবাজি শুরু হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই নন্দীগ্রাম থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় পৌঁছায়। বিজেপি নেতার দাবি অনুযায়ী, তাঁর বাড়ির ঠিক পাশ থেকেই তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ কার্যত ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ান। তিনি স্পষ্ট জানান, “আব্বাস বেগ কোনও বড় রাজনৈতিক নেতা নন যে তাঁকে হুমকি দিতে হবে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ভিডিও প্রমাণ দেখান।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনে নন্দীগ্রামের লড়াই এবার শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যক্তিগত সম্মানের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা পবিত্র কর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর সমীকরণ আমূল বদলে গেছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, ভোটের এখনো ঢের দেরি, তার আগেই যদি এই পরিস্থিতি হয়, তবে চূড়ান্ত লগ্নে নন্দীগ্রাম কোন পথে হাঁটবে? আপাতত পুলিশি টহল জারি থাকলেও থমথমে ভাব কাটেনি এলাকায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy