ক্যালেন্ডারের পাতায় ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের ১৭ তারিখ হয়ে গেল। সাধারণত মার্চ মাসের শেষের দিকে বা হোলির আগেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধির ঘোষণা হয়ে যায়। কিন্তু এই বছর ছবিটা একেবারেই আলাদা। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনও কেন্দ্রের তরফ থেকে কোনও ইতিবাচক সঙ্কেত মেলেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে প্রায় ৫৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং ৬৮ লক্ষ পেনশনভোগীর মধ্যে।
কেন এই বিলম্ব? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
ব্যাঙ্কবাজার-এর সিইও অধিল শেঠি এবং অন্যান্য আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দেরির পেছনে কোনও নীতিগত পরিবর্তন নেই। মূলত দুটি বড় কারণ কাজ করছে:
প্রশাসনিক অনুমোদন চক্র: ফাইল প্রক্রিয়াকরণ এবং মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের ধাপে কিছুটা দেরি হচ্ছে।
অষ্টম পে কমিশনের জট: যেহেতু সপ্তম পে কমিশনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ শেষ হয়েছে এবং ২০২৬ সাল থেকে অষ্টম পে কমিশন কার্যকর হওয়ার কথা, তাই নতুন কাঠামো সাজাতে গিয়ে ডিএ ঘোষণা কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে।
কত শতাংশ বাড়তে পারে ডিএ?
AICPI-IW (সর্বভারতীয় উপভোক্তা মূল্য সূচক) তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবার মহার্ঘ ভাতা ২% থেকে ৩% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমানে ডিএ ৫৮% শতাংশে দাঁড়িয়ে আছে, যা বেড়ে ৬০% বা ৬১% হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঘোষণা যখনই হোক, কর্মীরা ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই বকেয়া বা ‘এরিয়ার’ (Arrear) হিসেবে বর্ধিত টাকা পাবেন।
অষ্টম পে কমিশন ও বর্তমান বিভ্রান্তি
সপ্তম পে কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বর্তমানে সরকারি কর্মীরা এক ধরণের ‘ট্রানজিশন পিরিয়ড’ বা অন্তর্বর্তী সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। অষ্টম পে কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হলেও এর পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ কার্যকর হতে আরও সময় লাগতে পারে। এই বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ডিএ-র ঘোষণা না হওয়া কর্মীদের পকেটে সরাসরি টান ফেলছে।
কবে আসতে পারে ঘোষণা?
সাম্প্রতিকতম রিপোর্ট অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ বা মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই মোদী সরকার এই বহু প্রতীক্ষিত ঘোষণাটি করতে পারে। প্রশাসনিক মহলে এখন ফাইল চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলেই সূত্রের খবর।





