কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাক (I-PAC) ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলের গ্রেফতারির রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বিতর্কে জড়াল প্রশান্ত কিশোরের হাতে তৈরি এই সংস্থা। এবার অভিযোগের তির আরও গুরুতর। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ‘কাকের গায়ে ময়ূর পুচ্ছ’ লাগিয়ে আসলে তৃণমূল কর্মীদের ‘নকল সাংবাদিক’ সাজানোর কারখানা খুলেছে আইপ্যাক। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ভুয়ো প্রেস আইডি কার্ড তৈরি করে তৃণমূল কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে স্পর্শকাতর এলাকায় অবাধে প্রবেশ করতে পারেন।
শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট অভিযোগ, আইপ্যাকের তৈরি এই জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তৃণমূল কর্মীরা ভোটগ্রহণ কেন্দ্র এবং প্রশাসনিক স্তরে ঢুকে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। যা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে এক বড়সড় নিরাপত্তা ঝুঁকি বা থ্রেট হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘প্রেস’ লেখা কার্ড গলায় ঝুলিয়ে বুথের ভেতর ঢুকে ভোটারদের প্রভাবিত করা বা ভয় দেখানোর আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ ছাড়পত্র থাকে, আর সেই সুযোগকেই হাতিয়ার করতে চাইছে শাসক শিবিরের পরামর্শদাতা সংস্থাটি।
এই ‘ছদ্ম সাংবাদিকদের’ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, গত কয়েক মাসে রাজ্যে কত নতুন প্রেস কার্ড ইস্যু হয়েছে এবং কোন কোন সংস্থা এই কার্ড দিয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। একইসঙ্গে প্রতিটি জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হোক যাতে নতুন সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র খুঁটিয়ে দেখা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরই বুথের আশেপাশে থাকার অনুমতি দেওয়া উচিত। গণতন্ত্রের উৎসবে আইপ্যাকের এই ‘ভুয়ো পরিচয়’ দেওয়ার কৌশল যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে তা নির্বাচনী স্বচ্ছতার ওপর বড় আঘাত হানবে।





