যোগ দিবসের প্রস্তুতিতে নাজেহাল শহরবাসী! রেড রোড কাণ্ডে হাইকোর্টের বড় রায়, কী বললেন বিচারপতি?

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনের জন্য টানা সাত দিন কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ‘রেড রোড’ বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় বড় নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার কড়াকড়িতে যাতে সাধারণ মানুষ এবং আইনজীবীদের যাতায়াতে কোনো সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “অনুষ্ঠানটি রেড রোডে না করে ব্রিগেডের মতো বড় ময়দানে কেন করা গেল না?” উল্লেখ্য, রেড রোড বন্ধ থাকায় কাজের দিনে সাধারণ মানুষকে তীব্র ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ‘অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর তরফে করা এই মামলার সওয়ালে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেন, অন্তত ৫০ শতাংশ রাস্তা খোলা রেখেই যাতায়াত সচল রাখা সম্ভব ছিল।
অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজি (SPG)-এর নির্দেশিকা মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিগেডের তুলনায় রেড রোডে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা সহজ।
হাইকোর্টের নির্দেশিকায় যা রয়েছে:
আইনজীবীদের যাতায়াত: কলকাতা হাইকোর্ট অভিমুখী যান চলাচল যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশ কমিশনারকে।
বিকল্প ব্যবস্থা: আইনজীবী ও আদালতের কর্মীদের সময়মতো পৌঁছানোর জন্য পুলিশকে উপযুক্ত বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করতে হবে।
সেনাবাহিনীর ভূমিকা: এই মামলাটি পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনীকে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
সাফাই অভিযান: অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার সাথে সাথেই দ্রুত রেড রোড পরিষ্কার করে সাধারণের জন্য খুলে দিতে হবে।
আগামী ২৪ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। তার আগেই রাজ্যকে এই নির্দেশ পালন সংক্রান্ত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শহরের স্বাভাবিক জনজীবন সচল রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের কাছে।