যুদ্ধ-বিক্ষুব্ধ বিশ্বে নয়া মোড়! ব্রিকস সম্মেলন শুরুর আগে বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদীর

রাজধানীর ভারত মণ্ডপমে শুরু হতে চলেছে দু’দিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৮তম ব্রিকস (BRICS) সম্মেলন। এই বৈশ্বিক মঞ্চের ঠিক প্রাক্কালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্দেশ্যে নিজের দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সামাজিক মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে একটি বিশেষ পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, আগামী দিনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শীর্ষ নেতারা ব্রিকস সম্মেলনে এক জায়গায় মিলিত হবেন এবং বিশ্বকল্যাণের লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতিবাচক ও অর্থবহ আলোচনা হবে বলে তিনি সম্পূর্ণ আস্থাশীল।

শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই দুই দিনের সম্মেলনে খাদ্য সুরক্ষা, জ্বালানি শক্তি, জনস্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং গ্লোবাল সাপ্লাই চেনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দূরদর্শী বিষয়গুলি নিয়ে গভীর আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার জেরে ব্রিকস জোটকে একটি অত্যন্ত কার্যকর ও শক্তিশালী বিকল্প মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে নয়াদিল্লি।

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিতে নানা জল্পনা-কল্পনার আবহে এই সম্মেলন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্ব অর্থনীতির এই অস্থির সময়ে দাঁড়িয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলির যৌথ কণ্ঠস্বর জোরালো করতে এই বৈঠক বিশেষ প্রভাব ফেলবে।

চাঁদের হাট বসছে রাজধানীতে

এবারের ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতা ইতিমধ্যেই ভারতে এসে পৌঁছেছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তিন দিনের ভারত সফরে আগেই দিল্লি এসে পৌঁছন। ব্রিকসে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বসবেন। এছাড়াও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ একাধিক হেভিওয়েট নেতা এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। ২০১৯ সালের পর চিনের প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম ভারত সফর, যা কূটনৈতিক মহলে বিশেষ নজর কেড়েছে।

নিরাপত্তার মুড়ে ফেলা হয়েছে দিল্লিকে

বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতি এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নয়াদিল্লিতে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। ভারত মণ্ডপম ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা সহ পুরো রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ব্রিকসের এই মেগা ইভেন্ট সফল করতে রাজধানীজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ কর্মী এবং ২০০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ৫০০-রও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি চালানো হচ্ছে। ভিভিআইপি কনভয়ের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক রুটে কিছু সাময়িক বিধিনিষেধ ও রুট বদল করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের খুব বেশি অসুবিধা না হয়।