এক দিনে ২০ লক্ষ টিকিট বুকিং! আইআরসিটিসির সর্বকালীন রেকর্ডে চমকে গেল ভারতীয় রেল

ভারতীয় রেলওয়ের সহযোগী সংস্থা ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC) টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে এক অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। উৎসবের মরশুমের ঠিক প্রাক্কালে ভারতীয় রেলের ইতিহাসে একদিনে সর্বাধিক টিকিট বুকিংয়ের সর্বকালীন রেকর্ড গড়েছে এই সংস্থা। রেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর একদিনে মোট ২০ লাখেরও বেশি টিকিট বুকিং করা হয়েছে, যা ভারতীয় রেলওয়ের ইতিহাসে এই প্রথমবার কুড়িশ লক্ষের গণ্ডি অতিক্রান্ত করল।
শুধু ৭ সেপ্টেম্বরই নয়, তার ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ৮ সেপ্টেম্বরও রেলের টিকিট বুকিংয়ে অভাবনীয় জোয়ার দেখা গেছে। ওই একক দিনে আইআরসিটিসির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে মোট ১৯ লক্ষ ৫০ হাজার ৬৯৯টি টিকিট বুক করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই টিকিটের সংখ্যা প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। গত বছর এই নির্দিষ্ট সময়ে একদিনে সর্বোচ্চ ১৮ লক্ষ ৪০ হাজার ২০৩টি টিকিট বুকিং হয়েছিল। এই ধারাবাহিক ও বিপুল চাহিদার জেরে উৎসবমুখর রেলযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
আইআরসিটিসির শীর্ষ আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মোট সংরক্ষিত টিকিটের প্রায় ৮৯ শতাংশই অনলাইনের মাধ্যমে বুকিং করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ ট্রাফিক এবং অনলাইন চাপ নির্বিঘ্নে সামাল দেওয়ার জন্য সম্প্রতি একটি নতুন হাই-পারফরম্যান্স সার্ভার ইনস্টল করা হয়েছে, যার ফলে বর্তমান বুকিং ক্ষমতা আগের তুলনায় দ্বিগুণ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও, গত জুলাই মাসে আইআরসিটিসির পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ নতুন একটি ওয়েবসাইট এবং অত্যাধুনিক ইউজার ইন্টারফেস (UI) লঞ্চ করা হয়েছিল। এই নতুন প্রযুক্তির ফলে সাধারণ যাত্রীরা টিকিট বুকিং করার আগেই অত্যন্ত সহজে দেখে নিতে পারছেন যে কোন কোন বার্থ বা সিটগুলি বর্তমানে খালি রয়েছে।
অন্যদিকে, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রুখতে কড়া পদক্ষেপ করেছে রেলওয়ে কতৃপক্ষ। আইআরসিটিসির তরফে জানানো হয়েছে যে, একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-বট সিস্টেম চালু করার ফলে সিস্টেম থেকে প্রায় ৫৫ থেকে ৬৫ শতাংশ সন্দেহজনক ও ক্ষতিকর বট সফলভাবে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন প্ল্যাটফর্মে টিকিট বুকিং উইন্ডো খোলার প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যে কোনো বাণিজ্যিক এজেন্ট টিকিট কাটতে পারবেন না বলে কঠোর নিয়ম করা হয়েছে। এছাড়াও, টিকিট বুকিং প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সুরক্ষিত রাখতে পরিচয় নিশ্চিতকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।