পুজো কাটতেই রাজ্যে ফের ভোটের দামামা! নভেম্বরের শেষেই কি কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমে নির্বাচন?

নভেম্বরের শেষ সপ্তাহেই কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম সহ রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভায় ভোট করানোর প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু করে দিল রাজ্য সরকার। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, চলতি সেপ্টেম্বরের শেষেই পুরভোট সংক্রান্ত নিজেদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিতে পারে রাজ্য। শুধু কলকাতা এবং হাওড়া নয়, এই দফায় একসঙ্গে রাজ্যের আরও বেশ কয়েকটি পৌরসভাতেও নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। সম্ভাব্য এই তালিকায় বালি, হলদিয়া, ঝাড়গ্রাম, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং পুরসভাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
পুরভোটের এই প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করতে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু হয়েছে। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস, আসন সংরক্ষণ এবং ভোটার তালিকা আপডেট করার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে গতি আনা হয়েছে। দুর্গাপূজার আগেই প্রশাসনিক স্তরে সমস্ত প্রাথমিক প্রস্তুতি একেবারে চনমনে ও নিখুঁত রাখতে চাইছে রাজ্য। এরপর পুজো মিটতেই পুরভোটের চূড়ান্ত ও শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতিতে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ওয়াকিবহাল মহলের জোরালো দাবি, আগামী নভেম্বরের ঠিক শেষ সপ্তাহেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, পুরভোটের ঠিক আগে চলতি অক্টোবর মাসেই রাজ্যের দুটি হেভিওয়েট বিধানসভা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে উপনির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের সম্প্রতি ঘোষিত নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর। এই উপনির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ সেপ্টেম্বর। রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নন্দীগ্রাম আসনটি খালি হয়েছে বিধায়ক পদত্যাগের পর। জানা গেছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়ার পর ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রাম থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। সেই শূন্যপদেই এবার উপনির্বাচন হচ্ছে।
পাশাপাশি, রেজিনগর বিধানসভা আসনটিও বিধায়কের পদত্যাগের কারণে ফাঁকা হয়েছে। ফলে পুজোর ঠিক আগে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন এবং তার ঠিক পরপরই সম্ভাব্য পুরভোট—সব মিলিয়ে আগামী কয়েক মাস বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গন অত্যন্ত উত্তপ্ত ও কর্মমুখর থাকতে চলেছে।