বাঁকুড়ার বুকে লুকিয়ে কোনারক! শতাব্দীপ্রাচীন এই মন্দিরের রহস্য জানলে চোখ কপালে উঠবে, কীভাবে যাবেন জানেন?

সূর্য মন্দির বললেই সাধারণ মানুষের মানসপটে সবার প্রথমে ওড়িশার কোনারকের সূর্য মন্দিরের ছবি ভেসে ওঠে। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না যে, গোটা ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে মোট চৌদ্দটি সূর্য মন্দিরের সন্ধান পাওয়া গেলেও বাংলার বাঁকুড়া জেলায় এমন একটি প্রাচীন সূর্য মন্দির রয়েছে যার হদিশ আজও বহু পর্যটকের অজানা। ঐতিহাসিকদের মতে, এই মন্দিরটি কোনারকের সূর্য মন্দিরের থেকেও অনেক বেশি প্রাচীন এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। এই মন্দিরটির অনন্য স্থাপত্যশৈলী ও প্রাচীনত্বের জন্য এটিকে জাতীয় হেরিটেজের মর্যাদাও প্রদান করা হয়েছে।
সম্রাট অশোকের আমলের ঐতিহাসিক পিলগ্রিম রুট এবং ট্রেডরুটের ঠিক সংযোগস্থলেই অবস্থান করছে এই প্রাচীন মন্দিরটি। বাঁকুড়া শহর থেকে মাত্র দশ কিলোমিটার পশ্চিমে দারকেশ্বর নদীর দক্ষিণ তীরে সোনাতপল নামক একটি ছোট্ট ও মনোরম গ্রামে এই চিত্তাকর্ষক সূর্য মন্দিরটি অবস্থিত। অত্যন্ত আকর্ষণীয় এই মন্দিরটি ঘিরে বেশ কিছু রহস্যও জড়িয়ে রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ববিদ ও ক্ষেত্র সমীক্ষকদের মতে, বাইরে থেকে দেখলে এটিকে আসলে একটি প্রাচীন জৈন রেখা দেউল বলেই মনে হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে লাগানো তথ্যবোর্ডের সূত্র অনুযায়ী, এই মন্দিরটি আনুমানিক খ্রিস্টীয় একাদশ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল।
শক্তিশালী উঁচু ইটের ভিত্তির ওপর নির্মিত এই সূর্য মন্দিরের উচ্চতা কম করেও প্রায় ১২০ ফুট, যা এই অঞ্চলে অতুলনীয়। মন্দিরের নির্মাণশৈলীতে ব্যবহৃত পোড়ামাটির সূক্ষ্ম কাজ এর অনন্যতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। পশ্চিমবঙ্গের মাত্র তিন-চারটি মন্দিরে এই বিশেষ গঠনশৈলী দেখতে পাওয়া যায়। গর্ভগৃহের ভেতরে সরাসরি সূর্যের আলো প্রবেশ করার এক অপূর্ব ব্যবস্থা রয়েছে, যদিও বর্তমানে সেখানে একটি শিবলিঙ্গ ও ত্রিশূল স্থাপন করে পুজো করা হয়। তবে সঠিক প্রচারের অভাবে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ার কারণে এই ঐতিহাসিক স্থানে পৌঁছতে পর্যটকদের কিছুটা বেগ পেতে হয়। পাকা রাস্তা শেষ হওয়ার পর সোনাতপল গ্রামের মেঠো পথ ধরে হেঁটে মন্দিরের চূড়ার দিকে এগোলেই চোখে পড়ে এই অপূর্ব স্থাপত্য।