পুরুলিয়ায় ১০০০ একর জমিতে বিশাল সৌরশক্তি প্রকল্প! বাংলায় ইতিহাস গড়তে চলেছেন বাজাজ ফিনান্স?

পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা ও শিল্প পরিকাঠামো সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এক সুদূরপ্রসারী ও ঐতিহাসিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে স্বনামধন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাজাজ ফিনান্স লিমিটেড। শুক্রবার সল্টলেকের একটি অভিজাত শপিং মলে আয়োজিত সংস্থার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজ্যে সংস্থার ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ এবং সম্ভাব্য বিশাল বিনিয়োগের রূপরেখা নিয়ে একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিনের জনাকীর্ণ অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী সগর্বে দাবি করেন যে, বর্তমান সময়ে গোটা পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বাজাজ ফিনান্সের মোট ১১০টি সক্রিয় সেন্টার রয়েছে। তবে আগামী দিনে এই সংখ্যাটিকে নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে ২৫০টিতে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে এবং এই বিষয়ে সংস্থার শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনাও সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতগতিতে এই সম্প্রসারণের কাজ শেষ করার জন্য সংস্থাকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে রাজ্যের প্রায় ৮২৫টি ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প সংস্থার (MSME) সঙ্গে নিবিড়ভাবে হাত মিলিয়ে কাজ করছে বাজাজ ফিনান্স। এই বিস্তৃত ব্যবসায়িক পরিসর আগামী দিনে আরও প্রসারিত হলে সাধারণ মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মুখ্যমন্ত্রীর পেশ করা সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাজাজ ফিনান্সের এই বিশাল বিনিয়োগের ফলে আগামী দিনে প্রায় ৬ হাজার মানুষের সরাসরি এবং আনুমানিক ৫০ থেকে ৭৫ হাজার মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হতে পারে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বাজাজ ফিনান্সের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১,৯০০ কোটি টাকা। তবে এখানেই থেমে না থেকে আগামী তিন বছরের মধ্যে রাজ্যে অতিরিক্ত প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি। এর ফলে রাজ্যের আর্থিক পরিষেবা, ক্ষুদ্রঋণ এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক পরিকাঠামো আরও অনেক বেশি সুদৃঢ় ও বিস্তৃত হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুধু আর্থিক লেনদেন বা ব্যবসা সম্প্রসারণই নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রেও বাংলায় পা রাখার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছে এই শীর্ষস্থানীয় সংস্থাটি।

এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জানান যে, পুরুলিয়া জেলায় ইতিমধ্যেই প্রায় ১০০ একর জমি কিনে ফেলেছে বাজাজ ফিনান্স। ওই নির্দিষ্ট জমিতে একটি আধুনিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র বা সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরির বিষয়ে সংস্থাটি অত্যন্ত জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শুধু তাই নয়, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে মোট ১,০০০ একর জমি কেনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। বিশেষ উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই জমি অধিগ্রহণের কাজটি সংস্থাটি সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে সরাসরি সম্পন্ন করছে। তবে এই মেগা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা মেনে যদি অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন হয়, তবে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সংস্থার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি ও মর্যাদাপূর্ণ সার্টিফিকেশন আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়। পুরো বিষয়টিকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এক অনন্য ‘প্রাইড মোমেন্ট’ বা গর্বের মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থনৈতিক মহলের মতে, বাজাজ ফিনান্সের এই মেগা ইনভেস্টমেন্ট ও রিনোয়েবল এনার্জি প্রজেক্ট বাংলার শিল্পায়নকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।