ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী এবং আধুনিক করে তোলার লক্ষ্যে এবার এক অভাবনীয় উদ্যোগ নিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। যুদ্ধক্ষেত্রে বাহিনীর সক্ষমতা ও গতিপ্রকৃতি আরও নিখুঁত করতে এবার দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর কাছে ‘মর্টার স্পেশালিস্ট ভেহিকেল’ (MSV) কেনার জন্য তথ্যের অনুরোধ (RFI) জানাল সেনাবাহিনী। এই অত্যাধুনিক যুদ্ধযানটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
এই নতুন এমএসভি-র সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর পরিচালনা ব্যবস্থা। এই যানটি পরিচালনা করার জন্য মাত্র দুজন জওয়ানের প্রয়োজন হবে। এতে প্রায় ৫৪টি মর্টার বোমা বহন করার বিশাল ক্ষমতা থাকবে। মূলত ৮১ মিমি এবং ১২০ মিমি মর্টার সিস্টেমের কথা মাথায় রেখেই এই ভেহিকেলটি ডিজাইন করা হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকতে এবং শত্রুকে পরাস্ত করতে যা এখন ভারতীয় বাহিনীর অন্যতম তুরুপের তাস হতে চলেছে।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার নিরিখে এই যানটি অতুলনীয়। এতে যুক্ত করা হচ্ছে একটি অত্যাধুনিক ‘ব্যালিস্টিক কম্পিউটার’। এই কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব এবং দিক নির্ণয় করে মর্টারকে নিখুঁত নিশানা নিতে সাহায্য করবে। সাধারণত প্রথাগত মর্টার ব্যবস্থায় জওয়ানদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে হাতে হিসাব-নিকাশ করতে হয়, যা অনেক সময় ভুল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। কিন্তু এই ব্যালিস্টিক কম্পিউটার সেই ঝুঁকি পুরোপুরি নির্মূল করবে। এর ফলে যুদ্ধের ময়দানে প্রথম শটেই লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করা সম্ভব হবে এবং অহেতুক গোলাবারুদ নষ্ট হওয়া রোধ করা যাবে।
সেনাবাহিনী এই যানের কার্যকারিতা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর পাল্টা আক্রমণ এড়াতে দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, যা এই এমএসভি-র মাধ্যমে অত্যন্ত সহজতর হবে। অর্থাৎ, গুলি চালানোর পরপরই এই যান দ্রুত জায়গা বদলে ফেলতে পারবে, ফলে শত্রুর নিশানায় পড়া থেকে বেঁচে যাবে আমাদের জওয়ানরা। অপারেশনাল সুবিধার জন্য সামনে থাকা পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে সরাসরি ডেটা এই যানের কম্পিউটারে পৌঁছে যাবে, যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ফায়ারিং-এর নিখুঁত ডেটা তৈরি করে দেবে।
সেনাবাহিনীর বেঁধে দেওয়া মানদণ্ড অনুযায়ী, এই যানটি যুদ্ধক্ষেত্রে ২০ সেকেন্ডের মধ্যে ফায়ারিং-এর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হতে পারবে। শুধু তাই নয়, একবার ফায়ারিং করার পর মাত্র ৫ সেকেন্ডের মধ্যে এটি পুনরায় দ্বিতীয় আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় তৈরি হতে যাওয়া এই এমএসভি আধুনিক যুদ্ধের ল্যান্ডস্কেপে ভারতের আধিপত্য আরও সুনিশ্চিত করবে। এতে যুদ্ধের ময়দানে যেমন জওয়ানদের সুরক্ষা বাড়বে, তেমনই শত্রুপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ফায়ারিং পাওয়ার ও গতিশীলতার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।





