ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদে বিস্ফোরক দাবি! সিআইডি দফতর থেকে বেরিয়ে কী বললেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক?

দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে ‘নিখোঁজ’ থাকার পর এবং মাথার ওপর একাধিক আইনি মামলার খাড়া ঝুলেও অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। আর তার জেরেই জমি দুর্নীতির একটি স্পর্শকাতর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে বড়সড় আইনি রক্ষাকবচ পান তিনি। তবে সর্বোচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় তাঁকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করতে হবে। সেই আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই অবশেষে শনিবার সিআইডির সদর দফতরে হাজিরা দিতে পৌঁছন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। সেদিন টানা প্রায় দশ ঘণ্টা ভবানী ভবনের অন্দরে কাটার পর সেখান থেকে সোজা অভিষেকের বাসভবনে যান তিনি।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত রবিবার ফের একবার তলব করা হয়েছিল অভিষেকের ওই আপ্তসহায়ককে। নির্দিষ্ট দিন সকাল দশটায় ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছুটা আগেই সিআইডি দফতরে গিয়ে হাজির হন সুমিত। এরপর সেখানে তাঁকে একটানা আট ঘণ্টা ধরে এক ম্যারাথন জেরা করেন তদন্তকারী গোয়েন্দারা। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব শেষে সিআইডি দফতর থেকে বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুমিত রায় সাফ জানিয়ে দেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তবে এখানেই শেষ নয়, তদন্তকারী সূত্রের মারফত পাওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানা গিয়েছে যে, সোমবার অর্থাৎ আজ ফের একবার সিআইডি দফতরে তলব করা হয়েছে অভিষেকের আপ্তসহায়ককে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এবার আর আলোচিত জমি দুর্নীতি মামলায় নয়, বরং সম্পূর্ণ নতুন একটি অভিযোগে তাঁকে তলব করেছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের ডেবরা এলাকায় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার এক গুরুতর অভিযোগ দায়ের হয়েছে, আর সেই নির্দিষ্ট মামলাতেই এবার সিআইডির মুখোমুখি হতে হচ্ছে সুমিত রায়কে। একের পর এক আইনি জালে ঘেরা এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।