সংসদে আসছে বহুচর্চিত এফসিআরএ বিল! বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনে কী বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে মোদি সরকার?

বিরোধী শিবিরে ফাটল ধরাতে এবং সেই রাজনৈতিক সুযোগকে কাজে লাগাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও মরিয়া মোদি সরকার। চলতি সংসদীয় অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের। যদিও আসন পুনর্বিন্যাস সম্পর্কিত ডিলিমিটেশন সংশোধনী বিল পাশ হওয়া নিয়ে এখনও রাজনৈতিক মহলে ধন্দ বজায় রয়েছে, তবে বর্তমানে সংসদজুড়ে তুমুল আলোচনা কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে ‘বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন’ বা এফসিআরএ (FCRA)। কবে এবং কী প্রক্রিয়ায় সংসদে পেশ হবে এই বহুল আলোচিত ‘এফসিআরএ বিল ২০২৬’? তা নিয়ে নিখুঁত অঙ্ক কষে এগোতে চাইছে গেরুয়া শিবির। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিশেষ অধিবেশন ডেকে আসন পুনর্বিন্যাস ও মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করানোর উদ্যোগ নিয়েছিল কেন্দ্র, তবে তা সেভাবে এগোয়নি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার অত্যন্ত মেপে পা ফেলছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরা। চলতি অধিবেশনেই এফসিআরএ সংশোধনী বিল আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হবে কিনা, তা নিয়ে গত সোমবার বিজনেস অ্যাডভান্সড কমিটির (বিএসি) বৈঠকেই চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বৈঠকে যে বিলগুলি আলোচনার এবং অনুমোদনের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, তার মধ্যে এই বিলটি অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রণকৌশল তৈরি হচ্ছে। কী রয়েছে এই প্রস্তাবিত এফসিআরএ সংশোধনীতে?বর্তমানে ভারতে যেকোনো ব্যক্তি, এনজিও (NGO), ট্রাস্ট বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশি অনুদান গ্রহণ এবং তার সঠিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে ‘বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১০’। বিদেশ থেকে অর্থ পেলে তা কোন প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হবে, তার ওপর এই আইনের মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালানো হয়। বিদেশি অর্থ যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, জাতীয় নিরাপত্তা, জনস্বার্থ বা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এই আইনের মূল লক্ষ্য। প্রস্তাবিত ২০২৬ সালের সংশোধনী বিলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তনের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। কোনো সংগঠনের এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল, স্থগিত বা নবীকরণ না হলে, বিদেশি অনুদানে তৈরি হওয়া বা অর্জিত সম্পদ পরিচালনার জন্য সরকার একজন ‘নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ’ (Designated Authority) নিয়োগ করতে পারবে। প্রস্তাবিত এই বিলে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদেশি অনুদানে তৈরি কোনো সম্পত্তি যদি কোনো উপাসনালয় বা ধর্মীয় স্থান হয়, তবে সেই কাঠামোর ধর্মীয় চরিত্র ও পবিত্রতা অটুট রাখা ওই নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের জন্য সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক হবে। পাশাপাশি, নিয়মের সামান্য ব্যত্যয় ঘটলে সর্বোচ্চ শাস্তির মেয়াদ ৫ বছর থেকে কমিয়ে ১ বছর করার প্রস্তাবও নতুন খসড়ায় রাখা হয়েছে। বিদেশি তহবিলের স্বচ্ছতা শতভাগ নিশ্চিত করা এবং বেনামি বা অবৈধ ফান্ডের রাজনৈতিক বা অসামাজিক কার্যকলাপে ব্যবহার রোধ করাই এই বিলের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। কেন্দ্রের সাফ যুক্তি, এই আইন সংশোধনের উদ্দেশ্য কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা সমাজকল্যাণমূলক সংস্থাকে জবরদস্তি দখল করা নয়। বরং বিদেশি অনুদানের মাধ্যমে গড়ে ওঠা পরিকাঠামো ও সম্পত্তি যাতে কোনো আইনি কাঠামোর বাইরে চলে না যায় এবং সেই সম্পদ যথাযথভাবে রক্ষা করা যায়, সেটাই এই নতুন সংশোধনীর মূল লক্ষ্য।