এক বিঘাতেই সোনা ফলবে! কম খরচে ফুলকপি চাষ করে কীভাবে লাখপতি হচ্ছেন রামপুরের চাষি?

ফুলকপি চাষ থেকে বাম্পার লাভ পেতে চাইলে কেবল ফসল ফলানোই যথেষ্ট নয়, বরং চাষের সঠিক সময় নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। কৃষকদের মতে, প্রচলিত সময়ের কিছুটা আগে ফুলকপি চাষ করলে বাজারে এর সরবরাহ কম থাকে, যার ফলে দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি দাম পাওয়া যায়। সাধারণ শীতের সময়ে যখন সমস্ত বাজারে ফুলকপির ছড়াছড়ি থাকে, তখন এর দাম অনেক সময় প্রতি কেজি মাত্র ৭ থেকে ১০ টাকায় নেমে আসে। কিন্তু উৎসবের মরসুমের ঠিক আগে বা সেই সময়ে আগাম ফুলকপি বাজারে নিয়ে আসতে পারলে এর দাম এক লাফে প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় গিয়ে পৌঁছায়। সঠিক কৌশল ও সঠিক সময়ে বীজ বপন করলে কৃষকরা রাতারাতি তাক লাগিয়ে দিতে পারেন।
এই লাভের অঙ্কের সুফল হাতেনাতে পাচ্ছেন উত্তরপ্রদেশের রামপুর অঞ্চলের এক প্রগতিশীল কৃষক বিজয়। তিনি প্রচলিত সময়ের আগেই জুলাই মাসে ফুলকপির চাষ শুরু করেছেন। নিজের বিশাল ৬ বিঘা জমিতে তিনি উন্নতমানের কাবেরী জাতের আগাম ফুলকপি চাষ করেছেন। বিজয় জানিয়েছেন যে এই বিশেষ জাতের ফুলকপি রোপণের পর মাত্র ৬০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যেই পরিপক্ক হয়ে যায়। এর ফলে উৎসবের ঠিক প্রাক্কালেই ফসল কাটার উপযোগী হয়ে ওঠে, যখন বাজারে সবজির জোগান কম থাকে এবং চাষিরা তাঁদের উৎপাদিত ফসলের সর্বোচ্চ বাজারদর লাভ করতে পারেন।
সাফল্যের এই চাবিকাঠি ব্যাখ্যা করে ওই কৃষক জানান যে তিনি ৬ বিঘা জমির জন্য সর্বমোট ১৭ প্যাকেট মানসম্মত বীজ ক্রয় করেছিলেন। প্রতিটি প্যাকেটের ওজন ছিল ১০ গ্রাম এবং প্রতি প্যাকেটের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৭০০ টাকা। প্রথমে নিপুণভাবে নার্সারিতে চারা তৈরি করা হয়েছিল, যা মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে মূল জমিতে রোপণের উপযোগী হয়ে ওঠে। এরপর সেই চারাগুলি সুপরিকল্পিতভাবে জমিতে রোপণ করা হয়। বিজয়ের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এক বিঘা জমি থেকে প্রায় ১০ কুইন্টাল পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। যদি অতিবৃষ্টির কারণে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটে, তবে এই লাভজনক চাষাবাদ থেকে অনায়াসেই ২ লক্ষ টাকারও বেশি নিট মুনাফা অর্জন করা যায়।
তবে এই ধরনের আগাম ফুলকপি চাষের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করাও অত্যন্ত জরুরি। কৃষকদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে যেন চাষের জমিতে কোনোভাবেই অতিরিক্ত জল জমে না থাকে। জমির চারপাশে উন্নত নিষ্কাশন ব্যবস্থা রাখা, সঠিক সময়ে পরিমিত সার প্রয়োগ করা এবং যেকোনো ধরনের পোকামাকড় ও ছত্রাকজনিত রোগবালাই থেকে ফসলকে সুরক্ষিত রাখা আবশ্যক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছোট ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলি মেনে চললে যেকোনো কৃষকই বাম্পার ফলন নিশ্চিত করতে পারবেন এবং বর্তমান বাজারে সবজি চাষকে অন্যতম লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।