পরমাণু চুক্তি কি শিকেয় উঠবে? ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির গোপন চালে কোন বড় ফন্দি আঁটছেন ট্রাম্প?

ইরান ও আমেরিকার (Iran-US War) সংঘাত আজ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখনও চরম অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঢাকা। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত কি তবে বছরের পর বছর ধরে এভাবেই চলতে থাকবে? চিরকালের মতো কি বন্ধই থেকে যাবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait Of Hormuz)? দুই দেশের মধ্যে এখনও ড্রোন ও মিসাইল হামলা এবং পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন জোরালো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যে কোনো মূল্যের বিনিময়ে যুদ্ধবিরতির রাস্তায় হাঁটতে চাইছে আমেরিকা। এমনকি চমকপ্রদ তথ্য দিয়ে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের সঙ্গে বহুচর্চিত পরমাণু চুক্তি থেকে নাকি শেষ পর্যন্ত সরে আসতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)।

মার্কিন প্রশাসনের অন্দরমহলের ভাবনা-চিন্তা অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে এই সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্যই ছিল তেহরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচিকে চিরতরে ধ্বংস করা। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ওই বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের সঙ্গে নতুন কোনো পরমাণু চুক্তি পাকা না করেই আলোচনা টেবিল থেকে পাকাপাকিভাবে সরে আসার বিষয়টি নিজের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আধিকারিকদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, একমাত্র কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্তেই পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার বিষয়টি নিয়ে ভেতরে ভেতরে গভীর ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য আমেরিকার সামনে একের পর এক কঠিন ও অনমনীয় শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে তেহরান। সূত্রের খবর, এই শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের নগদ অর্থ প্রদান, মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমা থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা, ওই অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সেনা সরিয়ে নেওয়া এবং বিশ্ব বাজারে ইরানের জমে থাকা সমস্ত জব্দ সম্পদ বা ফান্ড অবিলম্বে মুক্ত করার জোরালো দাবি। তেহরানের এই কঠোর দাবিগুলোর জেরে হোয়াইট হাউসের সামনে কূটনীতির পরিসর ও বিকল্প পথ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। একইসঙ্গে, মার্কিন চাপের মুখে দ্রুত কোনো সমঝোতায় না গিয়ে তেহরান যে দীর্ঘমেয়াদি এবং নাছোড়বান্দা সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে, কূটনৈতিক মহলে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।

উল্লেখ্য, সংঘাতের সূত্রপাত হওয়ার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল তেহরান। ইরানের সুনির্দিষ্ট দাবি ছিল, মার্কিন কোনো যুদ্ধজাহাজ বা তাদের সহযোগী দেশগুলির কোনো নৌবহরকে এই জলপথ দিয়ে একচুলও এগোতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে, এই বাণিজ্য রুট ব্যবহারকারী বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলির কাছ থেকে জোরপূর্বক মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের চেষ্টাও করেছে ইরান। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর ওই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের এই কঠোর বিধিনিষেধ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ ব্যবহারের বিনিময়ে টোল আদায়ের যেকোনো অবৈধ প্রচেষ্টা একবাক্যে প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন।