“ভারত আমার স্বর্গ!” খাঁটি দেশি স্টাইলে কথা বলে মন কাড়লেন জার্মান নাগরিক

যখন কোনো বিদেশি নাগরিক আপনার মাতৃভাষায় একেবারে নিখুঁত ও গ্রাম্য বা দেশি ঢঙে কথা বলতে শুরু করেন, তখন অবাক হওয়াটাই স্বাভাবিক। সামাজিক মাধ্যমে আজকাল তেমনই একটি অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও মজার ভিডিয়ো ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে একজন জার্মান বৃদ্ধকে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ভারতীয় পর্যটকদের সঙ্গে এত নিখুঁত উচ্চারণে হিন্দি বলতে দেখা গেছে যে সবাই তা দেখে থমকে গেছেন। ভারতের প্রতি ওই বিদেশি বৃদ্ধের গভীর ভালোবাসা এবং তাঁর কথা বলার চমৎকার ভঙ্গি ইন্টারনেটে মানুষের মন কেড়ে নিয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োয় যখন ওই জার্মান বৃদ্ধকে প্রশ্ন করা হয় যে তিনি এ পর্যন্ত কতবার ভারতে এসেছেন, তখন তিনি মৃদু হেসে যে উত্তর দেন তা সকলকে বাকরুদ্ধ করে দেয়। তিনি জানান যে তিনি এখনও পর্যন্ত ১৫০ বারেরও বেশি ভারত ভ্রমণ করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি ভারতীয় খাবারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ওই বৃদ্ধ স্পষ্টভাষায় জানান যে তিনি সম্পূর্ণ নিরামিষাশী এবং নিরামিষপ্রেমীদের জন্য ভারত কোনো স্বর্গরাজ্যের চেয়ে কম কিছু নয়। আর ঠিক এই কারণেই ভারতের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা বারবার তাঁকে এই দেশের টানে ছুটে আসতে বাধ্য করে।
এই ভিডিয়োটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, ওই জার্মান পর্যটক শুধুমাত্র কোনো পুঁথিগত বা কৃত্রিম হিন্দি বলছেন না, বরং তাঁর কথা বলার ভঙ্গিতে একটি খাঁটি দেশি ছোঁয়া স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে। কথোপকথনের মাঝেই তিনি হঠাৎ করে উপস্থিত লোকজনকে অত্যন্ত মজার সুরে প্রশ্ন করে বসেন, “ভোজপুরি আওত হ্যায় কা?” একজন বিদেশি নাগরিকের মুখ থেকে এমন নিখুঁত দেশি মেজাজের প্রশ্ন শুনে সেখানে উপস্থিত মানুষ নিজেদের হাসি চেপে রাখতে পারেননি।
ভিডিয়োয় ওই বৃদ্ধ নিজের পরিচয় ও কাজের ক্ষেত্র সম্পর্কেও বিশদ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান যে তিনি একটি স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং তাঁর প্রধান কাজ হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ সংক্রান্ত নানা বই প্রকাশ করা। পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবেই তিনি গোটা বিশ্ব ঘুরে বেড়ান, তবে ভারতের প্রতি তাঁর টান এবং আবেগ সবার থেকে আলাদা ও বিশেষ।