ম্যাগির প্যাকেটে পোকা? সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল দাবির আসল সত্যিটা কী?

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ম্যাগি ব্র্যান্ডের একটি প্যাকেট ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হয়, ম্যাগির একটি প্যাকেটের ভেতরে পোকা বা সংক্রমণের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। শিশুদের অত্যন্ত প্রিয় এই খাবার নিয়ে এমন অভিযোগে স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পোস্টটি নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং তা নেটিজেনদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দেয়। বিষয়টি ভারতের খাদ্য সুরক্ষা ও মান নির্ধারণকারী সংস্থা FSSAI-এরও নজরে আসে।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নেসলে ইন্ডিয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। সংস্থার দাবি, তারা FSSAI-এর মাধ্যমে পুরো বিষয়টি জানতে পারে। তবে অভিযোগকারীর কাছ থেকে কোনো নমুনা বা সরাসরি যোগাযোগ কোনোটিই সম্ভব হয়নি। নেসলে জানিয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তারা নিজেদের তরফে তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ ওঠা নির্দিষ্ট ব্যাচ এবং বাজার থেকে সংগ্রহ করা একই ব্যাচের অন্যান্য নমুনা পরীক্ষার জন্য FSSAI-স্বীকৃত এবং NABL-অনুমোদিত একটি স্বাধীন পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।

পরীক্ষার রিপোর্ট প্রসঙ্গে নেসলের দাবি, রিপোর্টে কোনো প্রকার পোকা, সংক্রমণ বা গুণগত ত্রুটির কোনো প্রমাণ মেলেনি। সংগৃহীত প্রতিটি নমুনা খাদ্য নিরাপত্তা ও গুণগত মানের সমস্ত শর্ত পূরণ করেছে। অর্থাৎ, ভাইরাল পোস্টের দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়া বিবৃতিতে নেসলে ইন্ডিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অযাচাইকৃত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ছড়ানো এই তথ্য ভ্রান্ত। উৎপাদন থেকে প্যাকেজিং—প্রতিটি পর্যায়ে তারা কঠোর গুণমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা মেনে চলে। এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এবং ল্যাব রিপোর্ট ইতিমধ্যেই FSSAI-এর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভুল তথ্যের দ্রুত প্রসার যে কতটা উদ্বেগের কারণ হতে পারে, এই ঘটনা তার একটি বড় উদাহরণ। ভাইরাল ছবি বা পোস্ট দেখে আতঙ্কিত না হয়ে, প্রকৃত সত্য এবং সরকারি মানদণ্ডের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সংস্থার বক্তব্য, ম্যাগি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হয় না।