বিদ্রোহে ফুঁসছে তৃণমূল, অভিষেকের বিরুদ্ধে কেন নীরব মমতা? ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র অস্থিরতা। নির্বাচনী ফলাফলের এক মাস অতিক্রান্ত না হতেই দলের ভেতর ভাঙনের সুর স্পষ্ট। একদিকে একগুচ্ছ বিধায়ক ও সাংসদ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন, অন্যদিকে রাজ্যসভার একাধিক সদস্য ইস্তফা দিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের হার এবং একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায় চাপিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন আদি ও নবীন—উভয় ঘরানার নেতাদের একাংশ।
দলের এই দুঃসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীরবতা রাজনৈতিক মহলে রহস্যের সৃষ্টি করেছে। কেন অভিষেককে ঘিরে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের মুখেও নেত্রী কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না? বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেককে কেবল দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই নয়, নিজের একমাত্র রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখেন। পরিবারের প্রতি টান এবং নিজের হাতে গড়া দলকে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা তাঁকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে।
দ্বিতীয়ত, ক্ষমতার ভারসাম্য। এই মুহূর্তে তৃণমূলের সাংসদ ও বিধায়কদের একটি বড় অংশ অভিষেকের নেতৃত্বের বিরোধিতা করলেও, নিচুতলার কর্মীদের ওপর মমতার একক নিয়ন্ত্রণ এখনো অটুট। যদি মমতা এই মুহূর্তে অভিষেকের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে দলের রাশ সম্পূর্ণ আলগা হয়ে যেতে পারে। তৃতীয়ত, আইনি জটিলতা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি মামলা ও তদন্ত চলছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে দলের রাশ থেকে সরিয়ে দিলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মমতা।
তবে বিদ্রোহী নেতাদের দাবি, অভিষেকের জীবনযাপন ও ঔদ্ধত্য দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে শতাব্দী রায়—অনেকেই নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখলেও অভিষেকের কাজের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দলের প্রতীক ও বিপুল পরিমাণ পার্টি ফান্ড কার দখলে থাকবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে আইনি ও সাংগঠনিক জটিলতা। মমতা এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে একদিকে রক্ত সম্পর্কীয় উত্তরাধিকার, অন্যদিকে দলের অস্তিত্ব রক্ষা। রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা সম্ভবত পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য কৌশলী সময় নিচ্ছেন, তবে সময়ের স্রোত যে তাঁর প্রতিকূলে বইছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।