মোদী রাজ্যে জইশ-ই-মোহাম্মদের বড় ষড়যন্ত্র ফাঁস! এটিএস-এর জালে ৫ জঙ্গি, তোলপাড় গুজরাট

দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফের বড়সড় সাফল্য পেল গুজরাট পুলিশ। রাজ্যের সন্ত্রাস দমন শাখা বা এটিএস (ATS) এক বিশেষ অভিযানে পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। গুজরাটের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দীর্ঘদিনের নজরদারির পর এই জঙ্গিদের পাকড়াও করা হয়, যা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ধৃতদের পরিচয় প্রকাশ্যে এনেছে পুলিশ। তারা হলো—বিলাল আবিদ শেরা, মহম্মদ আইয়ুব কাদিওয়াল (ওরফে মহম্মদ খাদিয়াসান), মহম্মদ শফি মুখি (ওরফে শফি চাপি), মহম্মদ হাসান কারাদিয়া (ওরফে হাসান হায়দরপুরি) এবং মহম্মদ আইয়ুব সুনাসারা (ওরফে মহম্মদ খালি)। সূত্রের খবর, এরা প্রত্যেকেই স্থানীয় এলাকায় অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করছিল, কিন্তু আড়ালে জইশ-ই-মোহাম্মদের নেটওয়ার্ককে সক্রিয় রাখতে এবং সংগঠনে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল।

এটিএস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পাঁচজনের উপর গত বেশ কিছুদিন ধরেই গোয়েন্দারা কড়া নজরদারি চালাচ্ছিলেন। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে তাদের আলাদা আলাদাভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তির ছদ্মনাম ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে এরা দীর্ঘদিন ধরে পরিচয় গোপন করে ভারতে থেকে জঙ্গি সংগঠনের হয়ে নাশকতার ছক কষছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জইশ-ই-মোহাম্মদের নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগসূত্রের বিষয়টিও প্রায় নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা।

এই গ্রেফতারির ঘটনায় রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দফতর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গুজরাটের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী সদা তৎপর। কোনো অবস্থাতেই কোনো ধরনের আতঙ্কবাদী তৎপরতাকে বরদাস্ত করা হবে না। এই অভিযানের পর রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটিএস কর্মকর্তারা আশাবাদী, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জইশ-ই-মোহাম্মদের ভারতের ভেতরের আরও বড় কোনো নেটওয়ার্কের হদিস পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, সন্ত্রাসবাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কতটা সজাগ। জইশ-ই-মোহাম্মদের মতো সংগঠন, যা অতীতে ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক বড় হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের গুজরাটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে শিকড় বিস্তারের চেষ্টা নিরাপত্তা বাহিনীকে দীর্ঘদিনের উদ্বেগে রেখেছিল। এই গ্রেফতারির পর নাশকতার পরিকল্পনা অনেকটা ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তদন্তকারী দল এখন ধৃতদের ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য ও আর্থিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখছে, যাতে এই জঙ্গি চক্রের মূল চাঁইদের পর্যন্ত পৌঁছানো যায়।