“মোদীর সঙ্গে প্রাতঃরাশের পর সোজা নবান্নে!”-শুভেন্দুর সঙ্গে গোপন বৈঠক করলেন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদরা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড়। শনিবার সকালেই সোজা নবান্নে হাজির হলেন ‘বিদ্রোহী’ দুই এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ আবু তাহের খান ও খলিলুর রহমান। রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁদের এই বৈঠক ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে মূলত দুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রথমত, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং তদন্ত চলাকালীন ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ২৯ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর (বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের) সামনে তুলে ধরেন। দ্বিতীয়ত, সম্প্রতি মসজিদে লাউডস্পিকার বা মাইক ব্যবহারের বিতর্ক নিয়ে সরব হন দুই সাংসদ। মসজিদ থেকে কোনও মাইক্রোফোন না সরানোর জন্য তাঁরা জোরালো আবেদন জানান এবং স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা আইন মেনেই চলব।”
বৈঠক শেষে আবু তাহের ও খলিলুর রহমান দাবি করেন, তাঁদের সমস্ত কথা শুনে মুসলিম সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবারই দিল্লির লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন এই বিদ্রোহী সাংসদরা। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সংসদীয় বিতর্কে আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন এবং “এনডিএ একটি পরিবার”—এই বার্তা দিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও এই সাংসদদের বৈঠক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের পরই ঠিক কী কারণে শুভেন্দু অধিকারীর দরবারে ছুটে গেলেন এই সাংসদরা? এই প্রশ্নের উত্তরে আবু তাহের খান জানান, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং ধর্মীয় ভাবাবেগ নিয়ে তাঁরা ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ডবল ইঞ্জিন সরকারের কাছে তাঁদের স্পষ্ট আর্জি, এমন কোনও পদক্ষেপ যেন করা না হয় যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।
তবে এনডিএ (NDA) জোটে যোগদান নিয়ে জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন এই সাংসদরা। শনিবার তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এনডিএ-র নামে কোনও বৈঠকে তাঁরা যোগ দেবেন না। তবে এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে আমন্ত্রণ পেলে তাঁরা সেই বৈঠকে থাকবেন। আবু তাহেরের কথায়, “কাগজে-কলমে এনসিপিআই এখনও এনডিএ-র শরিক নয়। নামের পাশে এখনও এআইটিসি (AITC) লেখা থাকে, তৃণমূলের নেতা হিসেবেই বৈঠকে ডাকা হচ্ছে। রাজনীতি মানেই জটিলতা, তা কাটিয়ে ওঠাই আসল কাজ।”
দিল্লি থেকে কলকাতা—টানা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং রাজ্য স্তরে বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এই বৈঠকগুলি আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কোন সমীকরণ তৈরি করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।