মোদীর প্রশংসা করে কেন পদত্যাগ? শেহজাদ পুনাওয়ালার চিঠিতে বিস্ফোরক দাবি

জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিজেপি ছাড়লেন দলের অন্যতম পরিচিত মুখ তথা জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা। এতদিন ভারতীয় টিভি নিউজে যিনি বিজেপির পক্ষে জোরগলায় সওয়াল করতেন, সেই শেহজাদের রাজনীতি ছেড়ে এবার কোন নতুন পথে পা বাড়ান, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ইতিপূর্বে ২০১৭ সালে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন তেহসিন পুনাওয়ালার ভাই শেহজাদ। পরবর্তীতে কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি দলের অন্যতম প্রধান এবং ধারালো মুখপাত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে এবার দল ছাড়ার নেপথ্যে ব্যক্তিগত, আর্থিক এবং জরুরি পরিস্থিতির কথা প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি।

নিজের পদত্যাগপত্রে ৩৮ বছর বয়সি এই নেতা স্পষ্ট করে লিখেছেন যে, তিনি গত ৩০ জুলাই দলের কাছে তাঁর প্রথম পদত্যাগপত্রটি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় দলীয় নেতৃত্ব তাঁর সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য তাঁকে অনুরোধ জানিয়েছিল। সাম্প্রতিক এক চিঠিতে বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীনকে উদ্দেশ্য করে পুনাওয়ালা লিখেছেন, “দীর্ঘ ও গভীর চিন্তাভাবনা করার পরেই আমি আজ আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। তাই জাতীয় মুখপাত্রের পদ এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আমাকে অবিলম্বে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আমি আবারও সবিনয়ে আবেদন জানাচ্ছি।”

চিঠিতে কারও নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও বিস্ফোরক সুরে তিনি লিখেছেন, “গত কয়েক দিনের কিছু বিশেষ ঘটনা এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির অনভিপ্রেত আচরণের কারণে, যে সমস্ত বিষয় সম্পর্কে আপনাকে আমি আগেই বিস্তারিতভাবে জানিয়েছিলাম, আমাকে আমার আগের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকতে বাধ্য করেছে।” তবে দল প্রথমে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করায় নেতৃত্বণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, “আমার মনে কোনো ধরনের অভিমান, ক্ষোভ বা তিক্ততা নেই। বরং দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, দলীয় সভাপতি নীতিন নবীন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি. এল. সন্তোষের মতো দলের প্রবীণ ও শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালোবাসা রেখেই আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। গত পাঁচটি বছরে দল আমাকে যে বিশাল সুযোগ ও জমকালো মঞ্চ প্রদান করেছে, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।”

নিজের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, “জরুরি আর্থিক এবং একান্ত ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে আমি এবার সম্পূর্ণভাবে কর্পোরেট ক্ষেত্রে অর্থাৎ প্রাইভেট সেক্টরে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে আমি যেখানেই কাজ করি না কেন এবং যেভাবেই সম্ভব হোক না কেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ভারতীয় জনতা পার্টির সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি এবং উন্নয়নমূলক কাজগুলিকে সবসময় সমর্থন করে যাব। আমি কেবল দলীয় কাঠামোগত ব্যবস্থা বা সিস্টেম থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি, কিন্তু ব্যক্তি বা দলীয় আদর্শের জায়গা থেকে সরে যাচ্ছি না।” উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসের শেষ থেকেই তাঁর এক্স (X) হ্যান্ডেলে বায়ো পরিবর্তনের মাধ্যমে বড় ইঙ্গিত মিলেছিল। সেখানে তাঁর নামের পাশ থেকে “বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র” পরিচয়টি সম্পূর্ণ সরিয়ে নিলেও, তিনি “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আজীবন অনুগামী” কথাটি বিশেষভাবে লিখে রেখেছিলেন।

পেশায় একজন আইনজীবী শেহজাদ পুনাওয়ালার রাজনৈতিক যাত্রার শুরুটা হয়েছিল কংগ্রেসের হাত ধরেই। ২০১৭ সালে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি প্রবল আলোড়ন ফেলেছিলেন। সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, রাহুল গান্ধীকে দলের সভাপতি পদে বসানোর জন্য পূর্বপরিকল্পিতভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ‘কারচুপি’ করা হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক তেহসীন পুনাওয়ালার ভাই শেহজাদ পরবর্তীতে পুরোনো দল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যেই বিজেপির অন্যতম তীক্ষ্ণ ও প্রভাবশালী মুখ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।