অ্যাকাউন্টে ঢুকছে ৩০০০ টাকা! আজ থেকেই কাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে অন্নপূর্ণা যোজনার কিস্তি?

আজ ১৭ অগস্ট। ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারের দেওয়া পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আজ থেকেই সরাসরি যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হতে শুরু করেছে অন্নপূর্ণা যোজনার তৃতীয় কিস্তির টাকা। প্রতিটি উপভোক্তার সমস্ত তথ্য অত্যন্ত নিখুঁতভাবে যাচাই বা ভেরিফাই করার পরেই ধাপে ধাপে এই ৩০০০ টাকা সরাসরি পাঠানো হচ্ছে। রাজ্যজুড়ে চলা এই আর্থিক সহায়তার প্রক্রিয়াটি আগামী ৩০ অগস্ট পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলবে। গত ১২ আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসার পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই সুসংবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিলেন।

তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্তাবলী পূরণ করা বাধ্যতামূলক। কোন কোন যোগ্য মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনা পাবেন এবং কারা এই প্রকল্পের আওতা থেকে সম্পূর্ণ বাদ পড়বেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রতিটি নারীর জমা দেওয়া তথ্য কঠোরভাবে পুনরায় যাচাই করে তারপরই তা সরকারি অনলাইন পোর্টালে যুক্ত করা হচ্ছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ঠিক কারা এই তৃতীয় কিস্তির আর্থিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য?

এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রধানত কয়েকটি বিশেষ শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রথমত, আবেদনকারী মহিলার বয়স অবশ্যই ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট মহিলার মাসিক পারিবারিক বা নিজস্ব আয় ১০ হাজার টাকার বেশি হওয়া চলবে না। তৃতীয়ত, তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য যদি আয়করদাতা হন, তবে তিনি এই প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন না। চতুর্থত, আবেদনকারী মহিলাকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট এলাকার বৈধ ভোটার তালিকায় নাম থাকতে হবে। এছাড়াও, বাড়ি এবং জমি সংক্রান্ত মালিকানার নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড বা ক্রাইটেরিয়া এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে প্রযোজ্য করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ১ জুন থেকে এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের নতুন আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। যা একটানা গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে চালু রাখা হয়। আগ্রহী প্রার্থীরা যাতে সহজে আবেদন করতে পারেন, তার জন্য অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। এই বিশাল সংখ্যক আবেদনপত্রগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ভেরিফিকেশন বা যাচাই করার পরই শুধুমাত্র যোগ্য প্রার্থীদের এই বিশেষ ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যে সমস্ত মহিলা গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করেছেন এবং উপরে উল্লিখিত সমস্ত শর্ত সফলভাবে পূরণ করেছেন, শুধুমাত্র তাঁদেরই জমা দেওয়া নথি সঠিক থাকলে আজ থেকেই অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা ক্রেডিট হওয়া শুরু করবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তা হলো, উপভোক্তার সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে অবশ্যই আধার কার্ডের মাধ্যমে ডিবিটি বা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার লিঙ্ক থাকতে হবে। যদি এই ব্যাংকিং লিঙ্কটি না করা থাকে, তবে সরকারি সহায়তা হিসেবে অ্যাকাউন্টে কোনো টাকাই জমা হবে না। তাই দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।