মোজতবা খামেনেই কি আদৌ বেঁচে আছেন? ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডারকে নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক প্রশ্ন!

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইজরায়েলি ও মার্কিন হামলার পর থেকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক রহস্যময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেইকে দেশের তৃতীয় ‘সর্বোচ্চ নেতা’ (Supreme Leader) হিসেবে ঘোষণা করা হলেও, তিনি বর্তমানে কোথায় বা কোন অবস্থায় আছেন, তা নিয়ে ঘনিয়েছে ধোঁয়াশা। এই আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নতুন এই নেতার অস্তিত্ব নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিলেন। শনিবার একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনেই সম্ভবত বেঁচে নেই, আর থাকলেও তিনি মারাত্মকভাবে জখম বা ‘অক্ষম’ হয়ে পড়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথায়, “আমি শুনছি তিনি (মোজতবা) বেঁচে নেই। এখনও পর্যন্ত কেউ তাঁর বেঁচে থাকার কোনো জোরালো প্রমাণ বা ভিডিও সামনে আনতে পারেনি। যদি তিনি আদৌ বেঁচে থাকেন, তবে তাঁর দেশের ভালর জন্য তাঁর একটাই কাজ করা উচিত— আর তা হলো আত্মসমর্পণ করা।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যের রেশ টেনেই মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছেন যে, ইজরায়েলি অভিযানে মোজতবা খামেনেই কেবল আহতই হননি, বরং তাঁর চেহারাও সম্ভবত বিকৃত হয়ে গিয়েছে। এই কারণেই তিনি জনসমক্ষে আসতে পারছেন না বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
গত ৮ মার্চ ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ মোজতবাকে নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত করার পর ১২ মার্চ তাঁর একটি লিখিত বার্তা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করা হয়। কিন্তু সেখানে তাঁর কোনো অডিও বা ভিডিও বার্তা ছিল না। এমনকি তেহরানের রাস্তায় তাঁর বড় বড় বিলবোর্ড লাগানো হলেও, বাস্তবের মোজতবা এখনও ‘অন্তরালে’। যদিও ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন যে, নতুন সুপ্রিম লিডার সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং শীঘ্রই তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, কিন্তু ট্রাম্পের তোলা ‘মৃত’ হওয়ার জল্পনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। যুদ্ধের ১৫তম দিনে দাঁড়িয়ে ইরানের এই নেতৃত্ব-সংকট মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল বলেই মনে করা হচ্ছে।