জন্মের পর থেকেই কানে তালা! কলকাতার চিকিৎসকদের জাদুকরী অস্ত্রোপচারে ফিরল শ্রবণশক্তি

শব্দহীন এক অন্ধকার জগৎ থেকে অবশেষে আলোর পথে এক সাত বছরের শিশু। জন্মের সাত বছর পর এই প্রথম পৃথিবীর আওয়াজ শুনতে পেল সে। পূর্ব ভারতে এই প্রথম অত্যাধুনিক ‘OSIA-3 বোন কন্ডাকশন ইমপ্লান্ট’ (OSIA-3 Bone Conduction Implant System) সফলভাবে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে চিকিৎসকরা এক ঐতিহাসিক নজির গড়লেন।

কী ছিল সমস্যা? শিশুটির বিরল জন্মগত সমস্যা ছিল ‘বাইল্যাটারাল মাইক্রোটিয়া উইথ কনজেনিটাল অরাল অ্যাট্রেসিয়া’। সহজ কথায়, জন্ম থেকেই তার দুই কানের বাইরের অংশ এবং কানের নালি তৈরি হয়নি। এর ফলে তার শ্রবণশক্তি প্রায় ৬০ ডেসিবেল হ্রাস পেয়েছিল। তবে তার অন্তঃকর্ণ সম্পূর্ণ সুস্থ থাকায় চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাকে সুস্থ করার আশা জাগিয়েছিলেন।

অপারেশনে সাফল্য: কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ইএনটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনভি কে. মোহনের নেতৃত্বাধীন এক দল চিকিৎসক এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। প্রচলিত হিয়ারিং এইড যে রোগীদের ক্ষেত্রে কাজ করে না, তাদের জন্য OSIA-3 এক আশীর্বাদ। এই প্রযুক্তি হাড়ের কম্পনের মাধ্যমে সরাসরি শব্দকে অন্তঃকর্ণে পৌঁছে দেয়। ফলে কানের বাইরের অংশ বা নালি না থাকলেও রোগী পরিষ্কার শুনতে পায়।

কেন এটি ঐতিহাসিক? এটিই পূর্ব ভারতে প্রথম OSIA-3 সিস্টেম প্রতিস্থাপনের ঘটনা। চিকিৎসকদের মতে, কেবল প্রযুক্তিগত দিক থেকেই নয়, শ্রবণ পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও এটি একটি মাইলফলক। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক এনভি কে. মোহন বলেন, “জন্মগত কানের ত্রুটি থাকলে যত দ্রুত চিকিৎসা সম্ভব, ততই ভালো। বোন কন্ডাকশন ইমপ্লান্টের সাহায্যে শিশুরা এখন স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে, ভাষা শিখতে পারবে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বেড়ে উঠবে।”

এই সাফল্যের মাধ্যমে পূর্ব ভারতের চিকিৎসাব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো, যা আগামী দিনে বহু শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে সাহায্য করবে।

সম্পাদকীয় নোট: এই সাফল্য প্রমাণ করে যে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান কীভাবে একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। এ ধরনের খবর সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকরী।