মেয়র পদের ইস্তফা এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে যখন কলকাতা পুরনিগম তথা শহরের পরিষেবা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, তখন মুখ খুললেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ও প্রবীণ বাম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্য। ‘ইটিভি ভারত’-এর প্রতিনিধি মনোজিৎ দাসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করলেন, মেয়রের অভাব বা প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পরিষেবাতে।
পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা: বিকাশ ভট্টাচার্যের মতে, একজন মেয়রের পদত্যাগ কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি একটি গোটা প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যবস্থাকে স্থবির করে দেওয়ার সামিল। তিনি বলেন, “কলকাতা পুরনিগমের মতো বিশাল একটি সংস্থায় জল সরবরাহ, আবর্জনা পরিষ্কার, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং নিকাশি ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মেয়রের প্রত্যক্ষ নজরদারিতে চলে। শীর্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কেউ না থাকলে এই কাজগুলো ধীর হয়ে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত শহরবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়।”
রাজনৈতিক তরজা ও দায়বদ্ধতা: মেয়র পদে ইস্তফার ঘটনায় বিজেপি এবং তৃণমূল—উভয় রাজনৈতিক শিবিরই একে অপরের দিকে আঙুল তুলছে। এই প্রসঙ্গে বিকাশ বাবু কটাক্ষ করে বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে ব্যস্ত, অথচ সাধারণ মানুষ যে পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণ না করে একে অন্যের দোষারোপ করাটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
প্রাক্তন মেয়রের পরামর্শ: শহরবাসীকে আশ্বস্ত করতে এবং বিপর্যয় এড়াতে তিনি দ্রুত সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর কথায়, দীর্ঘ সময় ধরে একটি কর্পোরেশন প্রশাসকহীন বা পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্বহীন থাকা আইনত এবং ব্যবহারিক—উভয় দিক থেকেই বেমানান।
শহরবাসীর উদ্বেগ: বিকাশ ভট্টাচার্যের এই উদ্বেগ শুধু তাঁর ব্যক্তিগত মত নয়, বরং সাধারণ মানুষের মনের অবস্থাও প্রকাশ করছে। প্রশাসনিক এই ডামাডোলের মাঝে শহরের পানীয় জল থেকে নিকাশি—সবই কি তাহলে এখন ‘অনিশ্চয়তার’ পথে? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।





