কার্গিল দিবসে চরম আবেগ! রক্তে ভেজা বরফে বীর জওয়ানদের স্মরণ করে কী বার্তা দিলেন মোদি-দ্রৌপদী?

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক বিজয় এবং দেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করা অমর বীর জওয়ানদের অসামান্য স্মরণে প্রতি বছর ২৬ জুলাই অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয় কার্গিল বিজয় দিবস। আজকের এই বিশেষ দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় ১৯৯৯ সালের সেই সোনালী ইতিহাসকে, যে দিনটিতে দীর্ঘ প্রায় ৬০ দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে পকিস্তানি বাহিনীকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে চূড়ান্ত জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল ভারতীয় সেনা। লাদাখের দুর্গম ও বরফাচ্ছাদিত কার্গিলের উচ্চতম শৃঙ্গে ভারতীয় জওয়ানদের অদম্য সাহস, পরাক্রম এবং সাহসিকতার সামনে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিল পাক হানাদার বাহিনী। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়ে ভারতীয় সেনার বহু বীর জওয়ান ও বীর আধিকারিক শহিদ হয়েছিলেন। ‘অপারেশন বিজয়’-কে সফল করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৫১৭ জন দামাল সৈনিক। তাঁদের সেই সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের ফলেই কার্গিলের বুকে পুনরায় পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ভারতের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব। আজকের এই পবিত্র দিনে দেশের সেই সমস্ত সাহসী সেনার বীরত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব।

কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে দেশের মহামহিম রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এদিন মাতৃভূমির সুরক্ষায় নিজের প্রাণ উৎসর্গকারী অমর বীর যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (পূর্বতন টুইটার) দেশের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি অত্যন্ত আবেগঘন সুরে লিখেছেন, “আমাদের দেশ ভারতের বীর শহিদদের কাছে চিরকাল ঋণী হয়ে থাকবে। ১৯৯৯ সালের ২৬ জুলাই, লাদাখের দুর্গম কার্গিলের বরফাচ্ছাদিত ভূমিতে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে চলা সেই ঐতিহাসিক যুদ্ধের অবসান ঘটেছিল। ‘অপারেশন বিজয়’-এর এই সফল সমাপ্তি ও মহান জয়ের ঐতিহাসিক ঘোষণা হয়েছিল এই বিশেষ দিনটিতেই। ভারতের সেই চিরস্মরণীয় বিজয়কে শ্রদ্ধা জানাতেই প্রতি বছর অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয় ‘কার্গিল বিজয় দিবস’।” রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেছেন, “কার্গিল বিজয় দিবসের এই পবিত্র লগ্নে, আমি সেই সমস্ত বীর যোদ্ধাদের প্রতি সশ্রদ্ধ বিনম্র প্রণাম জানাই, যাঁরা আমাদের দেশের সীমানা সুরক্ষিত রাখতে নিজেদের জীবন বিপন্ন করে সর্বস্ব সঁপে দিয়েছেন। তাঁদের অসামান্য বীরত্ব, লৌহকঠিন অটল সংকল্প এবং অতুলনীয় দেশপ্রেম আমাদের ভারতীয় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ঐতিহ্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। দেশ তাঁদের অবদান কোনোদিন ভুলবে না। সেই বীর যোদ্ধাদের সাহসিকতার অনুপম গাথা আগামী প্রজন্মের তরুণ সমাজকে দেশসেবা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত কর্তব্য পালনের পথ বেছে নিতে অবিরাম অনুপ্রাণিত করতে থাকবে।”

অন্যদিকে, কার্গিল বিজয় দিবসের এই বিশেষ মাহেন্দ্রক্ষণে দেশবাসীকে উদ্দীপ্ত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিশেষ বার্তায় লিখেছেন, “আজ কার্গিল বিজয় দিবসে আমাদের সমগ্র দেশ, ভারতের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তারক্ষায় অসাধারণ সাহস, বীরত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের কর্তব্য পালন করা সমস্ত বীর সেনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। সবথেকে কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ভারতীয় জওয়ানদের অদম্য সাহস ও বীরগাথা আমাদের দেশের সর্বকালের অন্যতম বড় গর্বের উৎস হয়ে থেকে যাবে। তাঁদের অবিচল দেশপ্রেম এবং কর্তব্যপরায়ণতা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে দেশের টানে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করে যাবে।” ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সাল—আজ দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেও দেশের সর্বত্র একই রকম শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায় এবং স্মরণে পালিত হচ্ছে এই বিশেষ দিনটি। শহিদদের স্মরণে আজ এক সুতোয় গেঁথে উঠেছে গোটা দেশ। রাজধানী দিল্লির অমর জওয়ান জ্যোতি ও জাতীয় যুদ্ধ স্মারক থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি প্রান্তের প্রতিটি ভারতবাসী সশ্রদ্ধ কুর্নিশ জানাচ্ছেন সেই সব বীরনায়কদের, যাঁদের রক্তে ও বীরত্বে আজও আমাদের দেশের সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।