মেডিক্যাল কলেজকেও টেক্কা! উন্নত রক্তের যোগানে জাতীয় স্তরে সেরা আসানসোল ব্লাড সেন্টার

জেলাস্তরের একটি সরকারি হাসপাতাল যে উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামোয় বড় বড় মেডিক্যাল কলেজকেও পেছনে ফেলতে পারে, তার এক অনন্য নজির স্থাপন করল আসানসোল জেলা হাসপাতালের ব্লাড সেন্টার। উন্নততর মানের রক্ত যোগান এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের স্বীকৃতিস্বরূপ দিল্লির ‘ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেন্টার’ (NBTC)-এর কাছ থেকে সর্বোচ্চ জাতীয় স্বীকৃতি পেল এই ব্লাড সেন্টার। চলতি বছরে সমগ্র রাজ্যের মধ্যে জেলাস্তরের হাসপাতাল হিসেবে একমাত্র আসানসোলই এই বিরল সম্মানে ভূষিত হয়েছে।

সাফল্যের নেপথ্যে যে প্রযুক্তি: দীর্ঘদিন ধরে রক্তদান শিবির আয়োজন করে রক্তদাতাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি, ব্লাড সেন্টারটি রোগীর জীবন বাঁচাতে বেশ কিছু অত্যাধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • ফেনোটাইপ ম্যাচড ব্লাড (Phenotype Matched Blood): যা রোগীদের রক্তজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

  • রক্তের পৃথকীকরণ (Component Separation): রক্তের প্রতিটি অংশ আলাদা করে তা প্রয়োজনীয় রোগীর শরীরে প্রয়োগ।

  • গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড ক্রস ম্যাচিং (Gold Standard Cross Matching): রক্ত সঞ্চালনে সর্বোচ্চ সুরক্ষার নিশ্চিতকরণ।

কেন এই স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ? সাধারণত এই ধরনের উচ্চমানের প্রযুক্তিগত পরিষেবা বড় বড় মেডিক্যাল কলেজেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু আসানসোল জেলা হাসপাতালের ব্লাড সেন্টার মফস্বলের বুকেও যেভাবে সরকারি পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে মুমূর্ষু রোগী ও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের জন্য উন্নত রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করছে, তা চিকিৎসা মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

এই জাতীয় স্বীকৃতি আসানসোল হাসপাতালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং রক্তদাতাদের মনোবল কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য পরিষেবায় এই সাফল্য নিঃসন্দেহে এক নতুন মাইলফলক। আসানসোলের এই সাফল্য এখন গোটা পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলা হাসপাতালের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।