মধ্যপ্রদেশে অমানুষিক অত্যাচার! ডাকাতি করতে গিয়ে আদিবাসী মহিলার ওপর পাশবিক নির্যাতন, গোপনাঙ্গে কাঠের বস্তু ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

মধ্যপ্রদেশের আলিরাজপুর জেলায় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক এবং নৃশংস অপরাধের ঘটনা। ডাকাতি করতে বাড়িতে ঢুকে এক আদিবাসী মহিলার ওপর অমানুষিক যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের পর ওই মহিলার গোপনাঙ্গে কাঠের বস্তু ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ, যা শুনে শিউরে উঠছে গোটা দেশ।

ঘটনার সূত্রপাত পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে আলিরাজপুরের বোরি থানা এলাকার একটি গ্রামে পাঁচ থেকে ছয়জনের একটি দুষ্কৃতী দল হানা দেয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ডাকাতি। বাড়িতে ওই মহিলাকে একা পেয়ে দুষ্কৃতীরা চূড়ান্ত হিংস্র হয়ে ওঠে। অভিযোগ, প্রথমে ওই মহিলার ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় এবং এরপর তাঁর গোপনাঙ্গে কাঠের একটি বস্তু ঢুকিয়ে দিয়ে নৃশংসভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। দুষ্কৃতীরা বাড়ি থেকে রুপোর গয়না ও মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।

চিকিৎসকদের উদ্বেগ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া গুরুতর জখম অবস্থায় ওই মহিলাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইন্দোরের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে তাঁর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। আলিরাজপুরের পুলিশ সুপার রঘুবংশ কুমার সিং জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় মহিলার গোপনাঙ্গে গভীর ক্ষত ও আঘাতের প্রমাণ মিলেছে। ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দোষীদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম তল্লাশি চালাচ্ছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর এই ঘটনায় মধ্যপ্রদেশে নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে পড়েছে। কংগ্রেস বিধায়ক বিক্রান্ত ভুরিয়া হাসপাতালে নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের কাছে এই ঘটনার তদন্তের জন্য অবিলম্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি নির্যাতিতার সুচিকিৎসা ও পরিবারকে আর্থিক সহায়তারও আবেদন করেছেন।

ঘটনাটি কেবল ডাকাতি নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই নৃশংস অপরাধের পর গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।