সেবাশ্রয়ে চিকিৎসা করাতে গিয়েই খোয়া গেল পা! ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেকের বিরুদ্ধে ফের এফআইআর

ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালিত চিকিৎসা কেন্দ্র ‘সেবাশ্রয়’-এর চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। এবার চিকিৎসা সংক্রান্ত গাফিলতির জেরে এক মহিলার পা বাদ যাওয়ার অভিযোগে সাংসদের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হলো। রবীন্দ্রনগর থানায় দায়ের করা এই অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে।

কী ঘটেছিল? ভুক্তভোগী ওই মহিলা মহেশতলার বাসিন্দা। অভিযোগ, হাঁটুর পুরনো ব্যথার চিকিৎসার জন্য তিনি ‘সেবাশ্রয়’-এর শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে টানা দু’মাস সেখানকার চিকিৎসকদের দেওয়া ওষুধ সেবন করেন তিনি। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতির পরিবর্তে তা দ্রুত অবনতির দিকে যেতে থাকে। ওষুধে কাজ না হওয়ায় শেষমেশ তাঁকে সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে ওই মহিলার ডান পা বাদ দিতে হয়।

অভিযোগকারীর দাবি ভুক্তভোগী মহিলার অভিযোগ, তিনি বারবার এই গাফিলতির কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে চেয়েও কোনো সদুত্তর পাননি। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ন্যায়বিচারের আশায় তিনি রবীন্দ্রনগর থানায় দ্বারস্থ হন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

আইনি জটিলতায় ‘সেবাশ্রয়’ উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই ‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। এর আগে ডায়মন্ড হারবার এবং বিষ্ণুপুর থানায় সাংসদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বিষ্ণুপুরের মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তাঁর পিএ সুমিত রায়, স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল ও শামিম আহমেদ এবং ধৃত নেতা জাহাঙ্গির খানসহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘সেবাশ্রয়’-এর পরিষেবা ও চিকিৎসার মান নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ পরবর্তীতে পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তবে একে একে একাধিক এফআইআর দায়ের হওয়ার ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকল্প এখন কার্যত অস্তিত্ব সংকটে এবং প্রবল আইনি চাপের মুখে।