মুম্বাইয়ে ৩০০০ মিমি বৃষ্টিপাত! ৪৮ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু, মহারাষ্ট্রের ৪ জেলায় জারি হলো ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’

গত ৪৮ ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত মহারাষ্ট্র। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে রাজ্যজুড়ে বৃষ্টি-সম্পর্কিত নানা দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ জনের প্রাণহানির খবর মিলেছে। অপরদিকে, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ জানিয়েছে, বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলি থেকে এখন পর্যন্ত ১১,৮০০-রও বেশি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব নাসিকে, মুম্বাইয়ে রেকর্ড বৃষ্টি
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের সবচেয়ে করুণ প্রভাব দেখা গেছে নাসিক জেলায়, যেখানে চারজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এছাড়া আহিল্যনগর, ধারাশিভ, জলনা ও ইয়াভতমাল জেলাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
টানা বৃষ্টিতে মুম্বাই শহরের চিত্র ভয়াবহ। বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩,০০০ মিমি ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড। শহরের নিচু এলাকাগুলিতে জলাবদ্ধতা, ট্র্যাফিক জ্যাম, ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো সমস্যা এখন প্রতিদিনের চিত্র। বহু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
৪ জেলায় ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’, পরিস্থিতি খারাপের আশঙ্কা
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) রাজ্যের চারটি জেলায়— মুম্বই সাবার্বান, রায়গড়, থানে ও পালঘর— ‘ওরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করেছে। এই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এই অঞ্চলগুলিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে এবং সেই সঙ্গে সম্ভাব্য ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, উপকূলবর্তী মহারাষ্ট্র জুড়ে যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে ঘর থেকে না বেরোনো এবং প্রশাসনের পরামর্শ মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।
উদ্ধার কাজে প্রশাসন, মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা
বিপর্যস্ত অঞ্চলগুলিতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বন্যার জলে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি স্কুল-কলেজে অস্থায়ী ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, “এই বৃষ্টি এখনও থামেনি। যারা বিপন্ন এলাকায় রয়েছেন, তাদের প্রশাসনের সাহায্য নিতে হবে… সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে, তবে মানুষের সহযোগিতা সবচেয়ে জরুরি।”