শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায়কে ‘প্রহসন’ আখ্যা ছাত্রলীগের, বাংলাদেশে বিক্ষোভের ডাক

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক রায়কে ‘প্রহসনমূলক’ ও ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার সংগঠনের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচির কথা জানানো হয়।

 ছাত্রলীগের দাবি, শেখ হাসিনার হাত ধরেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে এবং মেগা প্রকল্পসহ ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপায়ন ঘটেছে। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত হলেও বর্তমানে এটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

 আওয়ামী লীগের এই কর্মসূচি ঘোষণা প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ। উপদেষ্টা বলেন, “আওয়ামী লীগ যে নামেই আসুক না কেন—সেটি ‘রিফাইন্ড’ হোক বা অন্য কোনো নতুন নাম—নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় তারা কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারবে না।”

উপদেষ্টা আরও জানান, আদালতের নির্দেশিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য প্রচার করতে পারবে না। সরকার মিডিয়াকে আদালতের এই নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জাসদ সভাপতি ও প্রাক্তন মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ষড়যন্ত্র ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে মঙ্গলবার তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়।

 রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির সাথে সাথে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীপক্ষের মধ্যে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে আইনের শাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হলেও, আওয়ামী লীগ অভিযোগ করছে—তাদের ক্রমবর্ধিষ্ণু জনসমর্থন ও সক্রিয়তায় ভীত হয়েই সরকার কর্মসূচি পালনের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করছে।

বর্তমানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায় এবং আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতি এক জটিল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।