আবগারি দুর্নীতিতে নবান্নের বড় পদক্ষেপ! ৩০০০ কোটির হিসাব চেয়ে তলব অর্থ দফতরের, চাপে কি পুরনো নীতি?

রাজ্যের আবগারি দফতরকে ঘিরে ওঠা একাধিক দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল অর্থ দফতর। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলের আবগারি নীতি নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, ২০১৭ সালে আবগারি দফতরের নীতিতে যে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছিল, সেই নথি ও রিপোর্ট খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছেন অর্থ দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

২০১৭ সালে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বেভারেজ কর্পোরেশন লিমিটেড’ (WBSBCL) গঠন করে রাজ্যে বিদেশি মদ ও বিয়ারের পাইকারি ডিস্ট্রিবিউশনের পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন করে সাজানো হয়েছিল। অভিযোগ, সেই সময় যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, তা স্বচ্ছতার নিরিখে যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে, সেই সময় প্রবর্তিত ‘ডিস্ট্রিবিউটার-ডিপো’ মডেলের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। জানা গিয়েছে, এই মডেল অনুযায়ী ডিস্ট্রিবিউটরদের খরচে খুচরো আউটলেটগুলিতে পণ্য সরবরাহের কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ডেলিভারি এবং পরিবহনের নামে আদতে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই মোটা অঙ্কের ফি আদায় করা হতো।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে রাজ্যের কাছে। অভিযোগকারী বা সংক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের দাবি, ডিস্ট্রিবিউটারদের বদলে খুচরো ব্যবসায়ীদের ওপর এই বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের তছরুপ হয়েছে। এই অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। অর্থ দফতরের আধিকারিকরা ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আবগারি দফতর ঠিক কী কী পদক্ষেপ করেছে এবং ডিপো মডেলের মাধ্যমে কীভাবে লেনদেন হয়েছে, তার প্রতিটি তথ্য যাচাই করছেন।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, অর্থ দফতরের আধিকারিকরা এই পুরো অভিযোগটি খতিয়ে দেখে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করবেন। সেই রিপোর্ট সরাসরি রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে জমা দেওয়া হবে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা তদন্তের গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হবে। আবগারি দফতরের এই নীতিগত পরিবর্তনের নেপথ্যে কারা ছিলেন এবং সেই সময়কার আধিকারিকদের কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, তাও তদন্তের পরিধির মধ্যে আসতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে স্বাস্থ্য পরিষেবা ও অন্যান্য সরকারি প্রকল্প নিয়ে চাপানউতোর চলছে। এরই মধ্যে আবগারি দুর্নীতির এই ইস্যু নতুন করে শাসকদলের অস্বস্তি বাড়াল। খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ এবং সরকারি কোষাগারের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অর্থ দফতরের এই সক্রিয়তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে আগামী দিনে আরও বড় কোনো তদন্ত শুরু হতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহল।