গেরুয়া পোশাকের আড়ালে প্রতারক! বাবাজির বিরুদ্ধে ন্যায় চাইছেন নির্যাতিতা ছাত্রীরা, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কি হবে?

১৭ জন ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন, কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি এবং ভুয়ো আন্তর্জাতিক পরিচয় সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে বর্তমানে গরাদের পেছনে রয়েছেন স্বঘোষিত ‘গডম্যান’ চৈতন্যনন্দ সরস্বতী (Chaitanyananda Saraswati)। আগ্রার একটি হোটেল থেকে তাকে আটক করার পর পাঁচদিনের জেল হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জেরা করছেন তদন্তকারীরা।

দিল্লির একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের দায়িত্বে থাকা এই গেরুয়া-ধারী বাবাজি হাজতে গেলেও আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছে না নির্যাতিতা ছাত্রীদের। তাঁদের ভয়, নিজের বিপুল ‘সোর্স’ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে ঠিক জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যাবেন এই অভিযুক্ত।

গোপন ক্যামেরা থেকে যৌন নির্যাতন: পাটিয়ালা কোর্টে ফাঁস হলো কুকীর্তি
দিল্লির শ্রী সারদা ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্ট-রিসার্চের পরিচালক স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতী ওরফে ড. পার্থসারথির বিরুদ্ধে ইডব্লিউএস (EWS) বৃত্তির আওতায় অধ্যয়নরত ১৭ জনেরও বেশি ছাত্রী গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে— অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, অবাঞ্ছিত শারীরিক যোগাযোগ এবং অশ্লীল বার্তা পাঠানো।

তবে সবচেয়ে বড় অভিযোগটি হলো, অভিযুক্ত বাবাজি গার্লস হোস্টেলের বাথরুমে গোপন ক্যামেরা লাগিয়েছিলেন। রবিবার পাটিয়ালা হাউস কোর্টের শুনানিতে দিল্লি পুলিশ বাবার এই কার্যকলাপ ফাঁস করে।

এর আগে ২০১৬ সালেও এই বাবাজির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। এক অত্যাচারিত ছাত্রীর বান্ধবী জানিয়েছেন, অফিসে ডেকে চৈতন্যনন্দ তাঁকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। ভুক্তভোগী ওই তরুণীর মোবাইল ফোনও কেড়ে নিয়েছিল বাবাজি। চৈতন্যনন্দের ভয়ে হোস্টেল থেকে পালিয়ে গেলেও তাঁর লোকজনেরা তাঁকে ধরে ফেলেছিল বলে অভিযোগ।

বাবাজি শুধু যৌন নির্যাতনকারী নন, তিনি ৮ কোটির প্রতারকও!
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, স্বঘোষিত এই ‘গডম্যান’ কেবলমাত্র একজন যৌন নির্যাতনকারীই নন, সেইসঙ্গে একজন প্রতারকও বটে। যৌন হেনস্থার এফআইআর দায়ের হওয়ার পরেও বাবাজি ব্যাংক থেকে ৫৫ লক্ষ টাকা তুলেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তে নেমে পুলিশ গেরুয়া-ধারী এই প্রতারকের প্রায় ৮ কোটি টাকার সম্পত্তি ও অর্থ বাজেয়াপ্ত করেছে।

বর্তমানে জেল হেফাজতে থাকলেও, নির্যাতিতা ছাত্রীরা বলছেন— এটা ন্যায় পাওয়ার লক্ষে কেবল প্রথম ধাপ। তাঁরা অভিযুক্ত বাবাজির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দাবি করছেন। এই ঘটনা গোটা দেশে এক নতুন প্রশ্ন তুলেছে— গেরুয়া পোশাকের আড়ালে আরও কত এমন প্রতারক ও অপরাধী নিজেদের আড়াল করে চলেছে?