মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেনে ছাত্রছাত্রীদের জন্য আলাদা কোচ! তেজস্বী ঘোষালকরের ঐতিহাসিক দাবিতে আলোড়ন!

মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেনে যাতায়াতকারী স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি নতুন এবং অত্যন্ত সময়োপযোগী দাবি তুলেছেন বিজেপি কাউন্সিলর তেজস্বী ঘোষালকর। এই বিষয়ে তিনি দেশের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি লিখে ১২-কোচের লোকাল ট্রেনের অন্তত তিনটি কোচ শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত করার জোরালো অনুরোধ জানিয়েছেন। ঘোষালকরের মতে, মুম্বাইয়ের বহু সংখ্যক জেন জি (Gen Z) এবং জেন আলফা (Gen Alpha) প্রজন্মের ছাত্রছাত্রী প্রতিদিন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে লোকাল ট্রেনে করে স্কুল ও কলেজে যাতায়াত করে থাকে। বিশেষ করে পিক আওয়ার বা ব্যস্ত সময়ে ট্রেনে যে প্রচণ্ড ভিড় হয়, তাতে ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত যাতায়াতের সময় চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তার সংকটের মুখে পড়তে হয়।
এই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার জন্য আলাদা কোচের প্রস্তাব সামনে এনেছেন। প্রেরিত চিঠিতে স্পষ্টভাবে দাবি করা হয়েছে যে, এই তিনটি সংরক্ষিত কোচ যেন প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীদের জন্য উপলব্ধ থাকে। এই বিশেষ ব্যবস্থা যেন সেন্ট্রাল রেলওয়ে এবং ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে—উভয় নেটওয়ার্কেই স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্য দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়, সেই আর্জিও জানানো হয়েছে।
এই ধরনের একটি বিশেষ আলাদা কোচের ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে প্রতিদিন যাতায়াতকারী ছাত্রছাত্রীরা চরম ভিড় থেকে মুক্তি পাবে এবং তাদের প্রতিদিনের স্কুল-কলেজ যাত্রা আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ ও সুবিধাজনক হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য, মুম্বাইয়ের লোকাল ট্রেনগুলোকে সর্বদাই এই মহানগরের জীবনরেখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেগুলিতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীসহ লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। তাই ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে আলাদা কোচের এই দাবি এখন সরাসরি রেল মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই প্রস্তাবের বিষয়ে রেল মন্ত্রক এবং রেল প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। উল্লেখ্য, তেজস্বী ঘোষালকর মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্বকারী একজন বিশিষ্ট বিজেপি নেতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে উদ্ধব ঠাকরের দল ছেড়ে তেজস্বীর বিজেপিতে যোগ দেওয়া এবং এই ধরনের জনমুখী প্রস্তাব পেশ করার পেছনে জেনারেশন জেড এবং জেনারেশন আলফাকে রাজনৈতিকভাবে আকৃষ্ট করার একটি সুচিন্তিত কৌশল রয়েছে।