মাদ্রাসায় কোটি-কোটি টাকার বিদেশি ফান্ড! তৃণমূল নেতার বাড়িতে উত্তরপ্রদেশ ATS-এর হানা

উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের রামেশ্বরপুরে বড়সড় তল্লাশি অভিযান চালাল উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি টেরর স্কোয়াড (ATS)। ‘রামেশ্বরপুর দারুল উলুম’ মাদ্রাসার নামে কোটি-কোটি টাকা বিদেশি ফান্ড বেআইনিভাবে লেনদেনের অভিযোগে আজ সকাল থেকেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। এই ঘটনায় কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতা আবদুল্লাহ গাজি ও তাঁর পুত্র।

জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে আজ ভোরবেলা হাসনাবাদের ওই মাদ্রাসায় হানা দেন উত্তরপ্রদেশ ATS-এর গোয়েন্দারা। মাদ্রাসার বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি। অভিযোগ, উন্নয়নের নামে বিদেশ থেকে কোটি-কোটি টাকা বেআইনি পথে মাদ্রাসার অ্যাকাউন্টে আনা হতো। সূত্রের খবর, অতীতেও এই আর্থিক দুর্নীতির দায়ে আবদুল্লাহ গাজি গ্রেফতার হয়েছিলেন। তবে জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর পুনরায় এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। আজ গোয়েন্দারা এলাকায় পৌঁছাতেই তৃণমূল নেতা আবদুল্লাহ গাজি ও তাঁর পুত্র এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছেন। বর্তমানে তাঁদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনায় ওই নেতার পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, তাদের অকারণে হেনস্থা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, শুধু হাসনাবাদ নয়, একইসঙ্গে তল্লাশি অভিযান চলেছে হাড়োয়াতেও। বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে ইডি (ED) আধিকারিকরা একযোগে তিনটি ভিন্ন জায়গায় হানা দিয়েছেন। জানা গেছে, আবদুস সামাদ নামে এক ব্যবসায়ীর বেসরকারি হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মাদ্রাসায় এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ইডি-র প্রাথমিক অনুমান, ওই ব্যবসায়ীর পরিচালিত ট্রাস্টে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসত, যা কোনো স্বীকৃত খাতে ব্যয় না করে অন্য কোনো গোপন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতো। এই লেনদেনের সূত্র খুঁজতেই আজ সকাল থেকে এলাকা ঘিরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

একই দিনে তৃণমূল নেতার বাড়িতে ATS ও অন্য এলাকায় ইডি-র হানা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। মাদ্রাসার আর্থিক লেনদেন নিয়ে এহেন কেন্দ্রীয় তদন্ত ও তল্লাশি অভিযান রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য—বিদেশ থেকে আসা এই বিপুল অর্থ আসলে কোন কোন পথে কাদের হাতে পৌঁছাচ্ছিল এবং তার সঙ্গে কোনো নাশকতামূলক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা। আপাতত পুরো এলাকা কেন্দ্রীয় জওয়ানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং গোয়েন্দারা প্রতিটি নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করছেন।