ইউটিউব-এক্স থেকে লাখ লাখ ব্যবহারকারীকে পাঠানো হচ্ছে পর্নোগ্রাফিক সাইটে! ভয়াবহ বিপদের মুখে ইউজাররা

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর অপব্যবহার এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ইউটিউব এবং এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো অজান্তেই লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারীকে এআই-চালিত পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইট ও ডিপফেক তৈরির অ্যাপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগ (আইএসডি)-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের সরাসরি এমন সব পরিষেবায় পাঠিয়ে দিচ্ছে, যেখানে যে কেউ সহজেই অন্যের আপত্তিকর বা পর্নোগ্রাফিক ছবি তৈরি করতে পারছে।
আইএসডি-র এই গবেষণায় ডিপফেক তৈরি করে এমন ১০টি সর্বাধিক প্রচলিত অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, গত ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬—এই চার মাসে ইউটিউব ও এক্সের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো পর্নোগ্রাফিক কন্টেন্ট তৈরি করে এমন ওয়েবসাইটগুলোতে ৫৭ লক্ষেরও বেশি ভিজিট তৈরি করেছে। এর মধ্যে ইউটিউব থেকে ১৮.২ লক্ষ ভিজিট এসেছে, যা মোট রেফারেলের প্রায় ৩০ শতাংশেরও বেশি। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এক্স থেকে এসেছে ১৩ লক্ষেরও বেশি ভিজিট।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যবহারকারীরা যখন ‘আনড্রেস অ্যাপ’-এর মতো শব্দ দিয়ে অনুসন্ধান করেন, তখন ইউটিউব বা এক্সের অ্যালগরিদম তাদেরকে এই টুলগুলোর পর্যালোচনা বা প্রচারমূলক ভিডিওর সামনে নিয়ে আসে। উদ্বেগের বিষয় হলো, কিছু ভিডিওতে এই অ্যাপগুলোর সরাসরি লিঙ্ক দেওয়া থাকে এবং বিনামূল্যে ক্রেডিট পাওয়ার জন্য বিশেষ প্রোমো কোডও দেওয়া হয়। এই প্রলোভন ব্যবহারকারীদের খুব সহজেই ডিপফেক বা আপত্তিকর ছবি তৈরির জগতে নিয়ে যাচ্ছে।
গবেষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো পর্নোগ্রাফিক কন্টেন্ট নিষিদ্ধ করার নিজস্ব নীতিমালা বজায় রাখার কথা বললেও, বাস্তবে তারা এই নিয়ম চরমভাবে লঙ্ঘন করছে। ইউটিউব বা এক্স কর্তৃপক্ষ দাবি করে যে তারা এ ধরনের ক্ষতিকারক বিষয়বস্তু কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু গবেষণার এই তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। ডিপফেক তৈরির টুলগুলো যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে, তা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই অবৈধ ব্যবহার কেবল ব্যক্তিগত গোপনীয়তাই নষ্ট করছে না, বরং এটি সাইবার অপরাধের নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের আপত্তিকর ছবি তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা রোধে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়বদ্ধতা এখন বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে। গবেষকরা আরও যুক্তি দিয়েছেন যে, যেসকল ওয়েবসাইট বা টুল ব্যবহার করে অন্যের সম্মতি ছাড়াই আপত্তিকর ছবি তৈরি করা সম্ভব, সোশ্যাল মিডিয়ার নীতিমালা অনুযায়ী সেগুলোর প্রচার বন্ধ করা উচিত। কিন্তু ইউটিউব ও এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো মুনাফার লোভে বা অ্যালগরিদমের গোলকধাঁধায় পড়ে পরোক্ষভাবে এই পর্নোগ্রাফিক টুলগুলোর প্রসারে সহায়তা করছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না হলে সাইবার জগতে এক ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।