মাথা উঁচু করে কাজ হবে, দমানো যাবে না পুলিশকে! এবার কী নির্দেশ দিলেন নতুন সিপি অজয় কুমার নন্দা?

রাজ্যে পালাবদলের পরেই প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় পরিবর্তনের হাওয়া। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরেই শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, পুলিশ ও আমলাদের মাথা উঁচু করে কাজ করতে হবে। সেই নির্দেশের রেশ ধরেই এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল কলকাতা পুলিশ। শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে লালবাজারে সমস্ত জয়েন্ট সিপি, ডিসি এবং ওসিদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসলেন নতুন পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দা।
ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’:
বৈঠকে কমিশনারের প্রধান এবং প্রথম লক্ষ্য ছিল ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ন্ত্রণ। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে কোনওভাবেই অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করার ক্ষেত্রে যে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা যায়, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরাধীদের ধরতে এবং হিংসা রুখতে পুলিশকে বিন্দুমাত্র রেয়াত না করার কড়া বার্তা দিয়েছেন সিপি।
বেআইনি অস্ত্র ও নারী নিরাপত্তা:
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শহরের আনাচে-কানাচে তল্লাশি চালিয়ে সমস্ত বেআইনি অস্ত্র, বোমা এবং বিস্ফোরক বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাচারকারী এবং দুষ্কৃতীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে গোয়েন্দা বিভাগকে বিশেষ সক্রিয় হওয়ার কথা বলা হয়েছে। কমিশনারের বিশেষ জোর ছিল নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার ওপর। তিনি জানিয়েছেন, শহরের প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুরা যেন নিজেদের সুরক্ষিত মনে করেন, তা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রাথমিক দায়িত্ব।
লাউড স্পিকার ও ট্র্যাফিক ডাইভ:
শব্দ দূষণ রুখতেও এবার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে লালবাজার। সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনোভাবেই লাউড স্পিকার বাজানো যাবে না। এমনকি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম বলবৎ থাকবে। পাশাপাশি, শহরজুড়ে শুরু হচ্ছে বিশেষ ট্র্যাফিক অভিযান বা ‘স্পেশাল ডাইভ’। বাইক আরোহীদের হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করা এবং ট্র্যাফিক আইন মানার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে ওসিতে। প্রতিদিনের উদ্ধার এবং কাজের খতিয়ান পৌঁছাবে শীর্ষ মহলে।
শিরদাঁড়া শক্ত করার আহ্বান:
মূলত, প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভয় দিয়ে বলেছিলেন, “ভয় পাবেন না, মাথা উঁচু করে কাজ করুন। আলাদা করে অনুপ্রেরণার প্রয়োজন নেই।” মুখ্যমন্ত্রীর সেই সুরেই সুর মিলিয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। আমলাদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা ছিল অত্যন্ত জোরালো— “আপনারা আইএস অফিসার, শিরদাঁড়া শক্ত করে কাজ করুন। কাজ করলে শিরদাঁড়া বাঁকাতে হয় না।” উপর মহলের এই ধারাবাহিক বার্তায় স্পষ্ট যে, নতুন সরকার প্রশাসনে পেশাদারিত্ব এবং নৈতিকতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চলেছে।