গ্রামবাসীদের ঘুম কেড়েছিল ৯ বছরের বাঘ! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সফলভাবে উদ্ধার করল মধ্যপ্রদেশ বন বিভাগ

মধ্যপ্রদেশের সেওনি জেলার বন বিভাগ প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই ভিত্তিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহার করে একটি বয়স্ক পুরুষ বাঘকে উদ্ধার করেছে। নয় বছর বয়সী বাঘ পিএন-১০৩ গত চার মাস ধরে বারঘাট-লামতা এলাকার গ্রামবাসীদের মনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। টানা দুই মাস ধরে একটানা কঠোর পর্যবেক্ষণের পর গত ২রা আগস্ট বাঘটিকে চেতনানাশক প্রয়োগ করে নিরাপদে ধরা হয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর তাকে ভোপালের বিখ্যাত বন বিহার জাতীয় উদ্যানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

এই জটিল অভিযানে বন কর্মকর্তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নির্দিষ্ট বাঘটিকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা। যে এলাকায় পিএন-১০৩ বিচরণ করছিল, সেখানে একই সঙ্গে আরও সাতটি বাঘের পাশাপাশি চিতাবাঘ, ভালুক এবং বুনো কুকুরের অবাধ যাতায়াত ছিল। ফলস্বরূপ, ভুল করে অন্য কোনো বন্যপ্রাণীকে ধরে ফেলার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। এই বিশাল চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে বন বিভাগ প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ এআই-ভিত্তিক ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করে, যা পুরো উদ্ধার অভিযানটিকে অত্যন্ত নির্ভুল ও ঝুঁকিমুক্ত করে তুলতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

অভিযানটিকে সফল করতে বন ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে প্রায় ৮০টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এই ক্যামেরাগুলো থেকে প্রাপ্ত নিরবচ্ছিন্ন ছবি ও ভিডিও ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বাঘটির সুনির্দিষ্ট গতিবিধি, কার্যকলাপ এবং শারীরিক পরিচয় ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। লক্ষ্যযুক্ত বাঘটিই যে পিএন-১০৩, তা একশ শতাংশ নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনাও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার আওতায় আনা হয়।

এই বিশেষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে প্রায় ৬০ জন দক্ষ বন কর্মকর্তা ও কর্মী দীর্ঘ দুই মাস ধরে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে বাঘটির কাছে নিরাপদে পৌঁছানোর জন্য কানহা টাইগার রিজার্ভ থেকে দুটি এবং পেঞ্চ টাইগার রিজার্ভ থেকে একটি প্রশিক্ষিত হাতি আনা হয়েছিল। দুর্গম ভূখণ্ডে বাঘের সন্ধান পেতে এবং উদ্ধার অভিযানকে মসৃণ করতে এই হাতিগুলোর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত চার মাসে বারঘাট-লামতা এলাকায় মানুষ ও বাঘের সংঘাতের একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল, যার জেরে পুরো এলাকাজুড়ে চরম ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করছিল। এই পরিস্থিতিতে দপ্তরটি গ্রামবাসীদের সুরক্ষাকে সর্বদা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় জানা যায় বাঘটির ওজন প্রায় ২৪০ কেজি এবং বয়সের ছাপ স্পষ্ট। আধুনিক প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ ভবিষ্যতে বন্যপ্রাণী রক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।