গোলাপ থেকে গাঁদা—সব জলের দর! এক ধাক্কায় কোথায় তলিয়ে গেল ফুলের বাজার? জানলে চমকে যাবেন

টানা দু-দিনের অঝোর বৃষ্টিতে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ফুল ব্যবসায়ীরা। চলতি বছর বিয়ের মরশুম এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান জাঁকজমকপূর্ণভাবে চলার কথা থাকলেও, হঠাৎ করে নেমে আসা অবিরাম বৃষ্টির জেরে ফুল বাজারে তৈরি হয়েছে তীব্র মন্দা। বৃষ্টির কারণে জমে থাকা জলের জেরে চাষিদের খেতের ফুল গাছ নষ্ট হতে বসেছে, অন্যদিকে বাজারে ক্রেতার চরম আকাল দেখা দেওয়ায় ফুলের দাম এখন একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে।
মাঠপর্যায়ের চিত্র তুলে ধরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই বিপর্যয় কতটা ভয়াবহ। বৃষ্টির আগে যে সমস্ত ফুলের মালা বাজারে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন পাইকারি ও খুচরা বাজারে নেমে এসেছে মাত্র ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। পাশাপাশি, ১৫০ থেকে ২০০ টাকা মূল্যের গোলাপের তোড়া বা থোকা এখন বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৩০ টাকায় এবং অনেক ক্ষেত্রে ছোট বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকায়।
দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে ফুল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী শিবু দত্ত তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জানান, হঠাৎ শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টির ফলে বিক্রেতা ও চাষিরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। জমিতে অতিরিক্ত জল জমে ফুল পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় কৃষকরা সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে। তাই বাধ্য হয়ে ফুল ব্যবসায়ীরা জলের দরে তা বেচে দিচ্ছেন কোনোমতে লোকসান কমানোর আশায়। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাস্তায় মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন ক্রেতা বের হয়েছেন, যাঁদের কাছে অতি কম দামে ফুল বিক্রি করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, ফুলের উৎপাদন খরচ বা আসল টাকা তোলাও ব্যবসায়ীদের কাছে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ফুল ব্যবসায়ীদের সাফ কথা, ক্ষেতে ফুল পচে পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার চেয়ে যা কিছু সামান্য উপার্জন হয়, সেই আশায় তাঁরা ভিজে ভিজে ফুল নিয়ে বাজারে বেরিয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির বিশাল বোঝা কাঁধে নিয়ে তাঁরা নামমাত্র মূল্যে ফুল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। মরশুমের এই অসময়ে প্রকৃতির এই মার ও বৃষ্টির ধাক্কা সামলে আগামী দিনে চাষিরা কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন, তা নিয়ে এখন গভীর দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন ফুল চাষি থেকে শুরু করে সাধারণ বিক্রেতারা।