তিলজলার একটি গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দু’জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার চরম সক্রিয় প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয়ে গেল প্রশাসনিক ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’। কর্তব্য অবহেলা এবং গাফিলতির অভিযোগে প্রগতি ময়দান ফায়ার স্টেশনের ওসি তথা স্টেশন অফিসার গৌতম দাসকে তড়িঘড়ি সাসপেন্ড করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই অবৈধ কারখানায় বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল কলকাতা পুরসভা।
দমকল কর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা:
তিলজলার ওই গুদামে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি কার্যকর করার ক্ষেত্রে এবং নিয়মিত পরিদর্শনে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল ওই স্টেশন অফিসারের বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি গৌতম দাসকে ফায়ার হেডকোয়ার্টার থেকেও দূরে রাখার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, এই ধরনের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কীভাবে বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়াই কারখানা চলছিল, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ খোদ মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক ও কড়া নির্দেশ:
গতকালের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, “তিলজলার ঘটনায় আজ যে রিপোর্ট হাতে এসেছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারখানার কোনো বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না। ইতিমধ্যেই তিলজলা থানায় মামলা দায়ের করে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” এখানেই শেষ নয়, মুখ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে এই ধরনের অবৈধ কারখানাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। কলকাতা পুরসভাকেও অবিলম্বে এই ধরনের বেআইনি নির্মাণের জলের লাইন কেটে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিলজলায় বুলডোজার অভিযান:
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিলজলায় পৌঁছায় পুলিশের বিশাল বাহিনী এবং বুলডোজার। যে বহুতলটিতে আগুন লেগেছিল, সেটির অবৈধ অংশ ভাঙার কাজ শুরু করেছে পুরসভা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলের ওই বিধ্বংসী আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয় দু’জনের এবং গুরুতর আহত হন আরও চারজন। এই ঘটনাকে ‘অশনি সংকেত’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শহরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা এই ধরনের মৃত্যুকূপগুলোকে চিহ্নিত করে এবার বড়সড় অভিযানে নামছে রাজ্য সরকার।





