ট্রাম্পের মাথায় আইনি বজ্রপাত! ভারতকে লক্ষ্য করে নতুন শুল্ক চাপাতেই আদালতে মুখোমুখি ২৫টি অঙ্গরাজ্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ আবারও বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সোমবার ডেমোক্র্যাট-শাসিত ২৫টি মার্কিন অঙ্গরাজ্য ভারত-সহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের পণ্য আমদানির ওপর আরোপিত নতুন শুল্ককে চ্যালেঞ্জ করে একটি যৌথ মামলা দায়ের করেছে। মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর জোরালো যুক্তি হলো, একই ধরনের পদক্ষেপে আদালতের একাধিক পূর্ববর্তী রায় থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন আবারও তাদের আইনি এখতিয়ারের সীমা লঙ্ঘন করে একরোখা নীতি চালিয়ে যাচ্ছে।

নিউ ইয়র্কের মর্যাদাপূর্ণ ‘ইউএস কোর্ট অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এ দায়ের করা এই মামলায় ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার অধীনে গত মাসে কার্যকর হওয়া ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ নতুন শুল্ককে সরাসরি নিশানা করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাফাই ছিল, যেসব দেশ জোর করে শ্রমের দ্বারা উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি রোধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছে, মূলত তাদের ওপরই এই শুল্কের খাঁড়া নামানো হয়েছে। তবে এই আইনি লড়াই ট্রাম্পের সার্বিক শুল্ক নীতির পক্ষে একটি বড় ও নতুন ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এর আগেও তাঁর একাধিক বাণিজ্য পদক্ষেপ মার্কিন আদালতে বারবার মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ফলস্বরূপ, নতুন কৌশলে শুল্ক আরোপের পথ বেছে নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট।

ওরেগন ও নিউ ইয়র্ক-সহ ২৫টি অঙ্গরাজ্য এই মামলাটি দায়ের করেছে, যার সবকটিতেই ডেমোক্র্যাট গভর্নর বা অ্যাটর্নি জেনারেলরা দায়িত্বে রয়েছেন। অঙ্গরাজ্যগুলোর মূল অভিযোগ হলো, ট্রাম্প সম্পূর্ণ ভিন্ন ও দুর্বল আইনি অজুহাত ব্যবহার করে এমন সব ব্যাপক আমদানি শুল্ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন, যা আদালত আগেই বেআইনি বলে রায় দিয়ে বাতিল করে দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলনের দায়ে অভিযুক্ত নির্দিষ্ট কোনও দেশ বা শিল্পের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা প্রয়োগ করা হয়, কিন্তু প্রায় সমস্ত মার্কিন আমদানির ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক বসানোর জন্য এই ধারা যত্রতত্র প্রয়োগ করা যায় না। ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ড এক তীব্র বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে প্রতিটি ধাপে আইনি ব্যর্থতা সত্ত্বেও ট্রাম্প আবারও কর্মজীবী পরিবার এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর মারাত্মক বিশৃঙ্খলা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিতর্কিত এই শুল্কের ঘোষণা করা হয়েছিল গত ২৪ জুলাই, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত-সহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের আমদানির ওপর সমানভাবে প্রযোজ্য হয়েছে। কঠোর প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পর কিছু দেশ তুলনামূলক কম শুল্ক হারের সুবিধা পেলেও, ভারতের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ১২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে বলে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা জানিয়েছেন। এদিকে পূর্ববর্তী পদক্ষেপগুলো বারবার আদালতের আইনি বাধার মুখে পড়ায়, ট্রাম্প তাঁর অর্থনৈতিক এজেন্ডার অন্যতম প্রধান স্তম্ভকে টিকিয়ে রাখতে এখন এই মরিয়া বিকল্প পথ বেছে নিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, জরুরি ক্ষমতার আওতায় প্রেসিডেন্টকে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের কোনো নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এর জবাবে ট্রাম্প বিভিন্ন ধারার আশ্রয় নিলেও প্রতিটি পদক্ষেপই আদালতে বাধার মুখে পড়ছে। তবুও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন ক্ষেত্রকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং বিশ্ববাণিজ্যের কাঠামো আমূল বদলে দেওয়ার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ট্রাম্প শুল্ক নীতিকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন।