রক্তাক্ত হাইওয়ে, আর চারদিকে শুধু স্বজন হারানোর আর্তনাদ। ঘড়ির কাঁটায় তখন মাত্র ৫০ সেকেন্ড অতিবাহিত হয়েছে, আর তার মধ্যেই ঝরে গেল ১৩টি তরতাজা প্রাণ। ১০০ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে ছুটে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসে হঠাৎ ‘বিস্ফোরণের মতো’ এক বিকট শব্দ, আর তার পরেই সব শেষ। মুহূর্তের অসতর্কতা নাকি যান্ত্রিক গোলযোগ? এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বাসটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আসছিল। হঠাতই একটি চাকা ফেটে যাওয়ার মতো বিকট শব্দ শোনা যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি উল্টে গিয়ে পাশের একটি পিলারে সজোরে ধাক্কা মারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে বাসের একাংশ দুমড়ে-মুচড়ে লোহার স্তূপে পরিণত হয়। জানলার কাঁচ ভেঙে যাত্রীরা ছিটকে পড়েন রাস্তায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কয়েকজনের, বাকিরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্যাস কাটার দিয়ে বাস কেটে দেহগুলি উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি এবং টায়ার বার্স্ট হওয়ার কারণেই এই বিপর্যয়। বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং চালকের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। এই মর্মান্তিক ঘটনা ফের একবার হাইওয়েতে গতির উন্মাদনা এবং যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।





